ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ১৫ হাজার টাকার ভাড়া এখন ৩০ হাজার টাকা

223

গত ১ মাস ধরে পণ্য পরিবহনে ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ যানবাহনের ভাড়া দ্বিগুণ বেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের ১৫ হাজার টাকার ভাড়া এখন ৩০ হাজার টাকার বেশি। একই সঙ্গে শ্রমিক পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত বাস না পাওয়ায় কারখানায় উৎপাদনও অর্ধেকে নেমে এসেছে। সময়মতো পোশাক ডেলিভারি দিতে না পারলে কমে যেতে পারে ক্রয়োদেশ। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রপ্তানি আয়ে। আর এতে বিপাকে পড়েছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা।

Advertisement

বিশ্লেষকদের দাবি, প্রায় চার বছর পর সারা দেশে
হরতাল-অবরোধ চলছে। দেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জিং সময়ে ঘোষিত হরতালের কারণে কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গত এক মাস ধরেই প্রতিদিন দেশের কোনো না কোনো প্রান্তে পণ্যবাহী ট্রাক কিংবা কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিচ্ছেন আন্দোলনের নামে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে অবরোধকারীরা ২৭৫টি গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি আরও ২৯০টি গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের তথ্যমতে, এ সময়ের মধ্যে সংস্থাটি ১৮৫টি গাড়ির আগুন নিভিয়েছে। এ আগুনের ঘটনার কারণে পণ্য পরিবহনে গাড়ি ভাড়া দিতে পরিবহন মালিকরা শঙ্কিত। এ অবস্থায় হাতেগোনা কিছু গাড়ি পাওয়া গেলেও তার ভাড়া অনেক বেশি। আবার আগুন সন্ত্রাস থেকে রপ্তানি পণ্য বাঁচাতে কৌশল হিসেবে ব্যবসায়ীরা একটির পরিবর্তে তিনটি করে গাড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আমাদের ছোট ছোট গাড়িতে পণ্য পরিবহনে বাধ্য হতে হচ্ছে। পুরো পণ্যের
ক্ষতি এড়াতে আমরা একটি গাড়িতে পুরো পণ্য দিচ্ছি না। এখন আমাদের মতো রপ্তানিকারকদের যে যার মতো কৌশল বের বরে পণ্য রপ্তানি করতে হচ্ছে। যার কারণে আমাদের একটি বিশাল অঙ্কের ক্ষতি পোহাতে হচ্ছে।

গত অক্টোবর মাসেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানি করা কাঁচামাল ঢাকায় পাঠানো কিংবা সেখানকার কারখানায় উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে আনার কাজে প্রতিটি কাভার্ড ভ্যানের ভাড়া ছিল ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। সেই ভাড়া এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়।

এছাড়া চট্টগ্রাম শহরের অভ্যন্তরে ৭ হাজার টাকার ভাড়া বেড়ে ঠেকেছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়।

চট্টগ্রামের একাধিক ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, গাড়ির মালিকরা তাদের গাড়ি ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না। কারণ যদি তাদের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়, তারা সেই আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। এতে আমাদের বিপুল ক্ষতি হচ্ছে।

গত অর্থবছরে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য বিদেশে রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু চলমান আন্দোলনে শ্রমিক পরিবহনকারী গাড়ি পোড়ানোতে বাড়তি টাকা দিয়েও পরিবহন পাচ্ছেন না গার্মেন্টস মালিকরা। ফলে কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমছে। ফলে এ শিল্প এখন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কারখানায় আমদানি করা কাঁচামাল পৌঁছানোর পাশাপাশি রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণের জন্য প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক ১২ থেকে ১৩ হাজার ট্রাক এবং কাভার্ডভ্যানের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা সাধারণত জাহাজেই বায়ারদের কাছে পণ্য পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান সংকটের কারণে যেমন শিপমেন্ট বাতিল করতে হচ্ছে, তেমনি বাড়তি খরচে পণ্য পাঠাতে হচ্ছে বিমানে।

Advertisement