লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা মেনে ঘরে থাকায় নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ ধন্যবাদ জানান।
এ সময় তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জীবন ও জীবিকাকে সমুন্নত রেখে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এরই আলোকে ১৪ এপ্রিল থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। সরকারের বর্ণিত নির্দেশাবলী গুরুত্বের সাথে সাথে পালন করছে নগরবাসী। দেখা যাচ্ছে যে খুব বেশি প্রয়োজন না হলে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। এর ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের উর্দ্ধগতিটাকে ঠেকাতে পারবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করেন তিনি।
তিনি নগরবাসীর কাছে বিনয়ের সাথে আবেদন জানান কষ্ট করে হলেও ঘরে থাকুন, সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সেই সাথে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গকে গরীব ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয় করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করেছে। এতে বলা হয়েছে রমজানে দেশের সব মসজিদে তারাবির নামাজসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ চালু থাকবে। করোনা সংক্রমণ এড়াতে তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। দেখা যাচ্ছে যে নগরীতে বিভিন্ন আকারের মসজিদ নির্মিত হয়েছে। অনেক মসজিদে মুসল্লি ধারণক্ষমতা বেশি, আবার অনেক মসজিদে কম। এক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনায় মুসল্লিদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যে সকল মসজিদে মুসল্লি ধারণক্ষমতা বেশি সে সকল মসজিদে সরকার নির্দেশিত সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায়ের সুযোগ দানেরও আহবান জানান তিনি। তাছাড়া জ্বর, সর্দি কিংবা অন্যান্য রোগে অসুস্থ মুসল্লিদের মসজিদের পরিবর্তে নিজ নিজ বাসায় নামাজ আদায় করার অনুরোধ জানান সুজন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রবাসী আয়। বাংলাদেশের শ্রমশক্তির একটি বিপুল পরিমাণ অংশ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত রয়েছে। বর্তমানে ছুটিজনিত কারণে দেশে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অবস্থান করছে। এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদেশগামী অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন। ফলে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন আমাদের শ্রমিকরা। দেখা যাচ্ছে যে একেকজন বিদেশগামী যাত্রী স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে ফ্লাইটের টিকেট কেটে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকার কারণে তারা নির্দিষ্ট সময়ে কর্মস্থলে যেতে না পারলে চাকুরি হারাবেন বলে শংকায় রয়েছেন। দেশের অর্থণীতির বিশাল অংকের রেমিট্যান্সের অন্যতম প্রধান যোগান দাতা হচ্ছে আমাদের প্রবাসীরা। যা রপ্তানীমূখী শিল্পের চেয়েও কোন অংশে কম নয়। অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে তাই যে কোন মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে সৌদি আরব, কাতার, ওমান, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসীদের স্বার্থে বিশেষ ব্যবস্থায় ফ্লাইট চালু রাখার আহবান জানান তিনি। এক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন সুজন।

















