চবিতে নিয়োগ ও স্থাপনায় দুর্নীতি অনুসন্ধানে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ফ্যাক্ট ফাইন্ডি গঠন!

117

বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে(চবি) কেনাকাটা, অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্নখাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি খুঁজে বের করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে।এই কমিটি ২০০৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বিগত ১৬ বছরের অনিময় ও দুর্নীতি অনুসন্ধানে কাজ করবে।

Advertisement

মঙ্গলবার (১২নভেম্বর) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর সাইফুল ইসলাম ১০সদস্যের এই কমিটি করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিটি খাতে যেভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে তারমধ্যে অন্যতম শিক্ষাখাতের ‍দুর্নীতি। যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এই দুর্নীতি অনুসন্ধান করে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরা দরকার।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়টি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত ১৬ বছরে ক্রয়-বিক্রয়, অবকাঠামো নির্মাণ, বাড়ি-ভাড়া, গাড়ি ব্যবহার, দোকান বরাদ্দ, প্রদোন্নতি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে আর্থিক ও প্রশাসনিক চরম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো চিহ্নিত করবে। এছাড়া প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, সংবিধি/রুলস-রেগুলেশন ও সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘিত হয়ে থাকলে তা নিশ্চিত করবে এই ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। গত ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৬তম জরুরী সিন্ডিকেট সভার ২৫ নং সিদ্ধান্তে বিগত প্রায় ১৫-১৬ বছর ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে এবং বিভিন্ন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিষয়ে কোন অনিয়ম/দুর্নীতি হয়েছে কিনা, তা উদঘাটনের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের জন্য উপাচার্যকে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে উপাচার্য নিম্নরূপ একটি কমিটি গঠন করেছেন।

অনুসন্ধান কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমানকে সভাপতি করা হয়েছে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন, মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এস.এম. সালামত উল্যা ভূঁইয়া, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা আক্তার, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ অছিয়র রহমান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাখাওয়াত হুসাইন, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহীন চৌধুরী, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোর্শেদুল হক এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাহাব উদ্দিন। এ ছাড়া সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন চবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইউসুফ।

সাবেক উপাচার্য শিরীণ আখতার উপাচার্য পদে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ২০১৯ সালের নভেম্বরে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে তিনি দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেন ১৭২ জনকে। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির ১১৫ আর চতুর্থ শ্রেণির ৫৭ জন। এর বাইরে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৩৬৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষক ১৩০ জন। অন্যরা কর্মচারী।

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কাজ করেন পিএইচডি গবেষণা ও মানবাধিকার কর্মী সোহরাওয়ার্দী আজাদ সুমন এ প্রসঙ্গে বলেন বিগত বছর গুলোতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সব ক্ষেত্রে অনিয়ম দূর্নীতির বীজ এমন ভাবে বপন করা হয়েছে যার মূল উৎপাটন জরুরি!কমিটির বিষয় টি আমরা সাধুবাদ জানায় তবে রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে কোন প্রকৃত অপরাধী যে পার পেয়ে না যায় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি!দুর্নীতি অনুসন্ধানে আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যহত থাকব!

Advertisement