সীতাকুণ্ডে ইউএনও’র কাণ্ড, অনুষ্ঠান মঞ্চে অতিথি আ.লীগ নেতা

247

সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভা ও ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে দেখা গেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতাও কমিটির সহ-সভাপতি এডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরীকে।

Advertisement

১৬ ডিসেম্বর বেলা এগারোটায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে উপজেলা নির্বাবাহী অফিসার কে এম রফিকুল ইসলামের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে। জুলাই গণঅভুত্থানে ছাত্র জনতার উপর হামলা ও গুলির নির্দেশদাতা সীতাকুণ্ডের কুখ্যাত চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজীসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের আইনজীবীও তিনি। এছাড়াও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হাজার হাজার বিএনপি-জামায়াত নেতাদের জামিনের বিরোধীতা করে আসছিলেন আদালতে।

অভিযোগ এসেছে, পতিত স্বৈরাচার সরকারের নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলো তার নেতৃত্বেই দেখভাল করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার নেতাদেরও ছাড়িয়ে আনছেন সাবেক এই মহানগর পিপি।

গেল পাতানো নির্বাচনে তিনি সীতাকুণ্ড আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে অভ্যুত্থান হওয়া নতুন বাংলাদেশে একজন স্বৈরাচারী নেতাকে অতিথি করে মেঞ্চ বসিয়ে রীতিমতো সম্মাননা দেয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানে এই আওয়ামী লীগ নেতাকে অতিথি করেছেন স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম রফিকুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে, সীতাকুণ্ডে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে পুনর্গগঠনের দায়িত্ব পড়েছে এডভোকেট ফখরুদ্দীন চৌধুরীর উপর। আর তাকে সহযোগিতা করে চলেছেন বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক নেতা কে এম রফিকুল ইসলাম।

এদিকে ইউএনও’র এমন স্বৈরাচারী আচরণে ক্ষুব্ধ বহু বিএনপি-জামায়াত নেতা। তাদের ভাষ্য এতো এতো বিএনপি-জামায়াত নেতা থাকতে তিনি কেন অতিথি। তাকে কেন সংবর্ধধনা।

অনুষ্ঠান স্থলে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু তাহের, উত্তর জেলা বিএনপি’র সদস্য ইউসুফ নিজামীসহ একাধিক নেতা দর্শক সারিতে বসে আছেন। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগের ফখরুদ্দিন দম্ভের সাথে হাসিমুখে বসে আছেন মঞ্চে ইউএনও ও ওসির সাথে। একপর্যযায়ে বক্তব্যও রাখেন তিনি। অথচ গেল ১৭ বছরে জামায়াত দূরে থাক বিএনপির কোন নেতা উপজেলায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল।

উত্তর জেলা বিএনপি’র সদস্য ইউসুফ নিজামী বলেন, এই ফখরুদ্দিন চৌধুরী আমাদের বহু নেতাকর্মীর জামিনের বিরোধীতা করেছিলেন। তার কারণে মাসের পর মাস নেতাকর্মীরা কারাগারে ছিলেন। জামিন চাইতে গেলেই তিনি বাধা হয়ে দাঁড়াতেন। বিচারক জামিন দেওয়ার মনস্থির করলেই ফখরুদ্দিন কোন একটা বাহানা দিয়ে আবার তা না মঞ্জর করিয়ে দিতেন। তিনি পিপি থাকাকালে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছেন। তার সেই ব্যবহার দুর্বব্যবহার কখনও ভুলব না। সেই লোক কিভাবে আসল আজকের অনুষ্ঠানে আমিতো আশ্চর্যয হয়ে গেলাম।

জেলার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, আমরা সরকারি আইনজীবী হয়েও দাওয়াত পাইনি। অথচ আওয়ামী লীগ নেতা দাওয়াত পেলো তাও আবার মঞ্চের অতিথি। এটি স্বৈরাচারি অফিসারের দ্বারাই সম্ভব। এই ফখরুদ্দিন আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির কেন্দ্রীয় সব নেতাদের জামিনে বিরোধীতা করতেন। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আমির খসরু, আসলাম চৌধুরী ,ডা. শাহাদাতসহ কেন্দ্রীয় সব নেতার জামিন হতে দেননি এই ফখরুদ্দিন।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন সীতাকুণ্ড উপজেলার সভাপতি আবু বক্কর চৌধুরী বলেন, তিনিতো মানবাধিকার লঙ্গনকারী। একজন মানুষ কতোদিন কারাগারে থাকে। তিনি মাসের পর মাস কারাভোগ করার পরও বিরোধী দলের নেতার্কমীদের জামিন নিতে বাধা দিতেন। তিনি এখানে আসলেন কিভাবে ? যিনি এনেছেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ফখরুদ্দিন চৌধুরী ১৯৬৮ নিজামপুর কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের পর ভারতে পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরী, মৌলভী সৈয়দসহ বড় একটা দল। ওইসময় সেখান থেকে তারা চিন্তা করছিলেন দেশে ফিরে কোন একশন নেওয়া যায় কিনা। একপর্যযায়ে ফখরুদ্দিন চৌধুরীর মালিকানাধীন গ্লোব প্রিন্টিং প্রেসে এসে আশ্রয় নেন মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ অন্য নেতারা। সেখানে দেখা করতেন আ জ ম নাছির, সফর আলী, নঈমুদ্দিন, আবুল হাশেম, শ্রমিক নেতা সিরাজসহ সব ছাত্র নেতা। সেসময় এভাবেই ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগ তার অঙ্গ সংগঠনগুলোকে পুনর্বাসন করেছিলেন এই ফখরুদ্দিন চৌধুরী। একই কায়দায় তিনি এখন আইনজীবির বেশে আওয়ামী পুনর্গঠনের মিশনে নেমেছেন। গুঞ্জন আছে তাকে ভারত থেকে সরাসরি নির্দেশ দিচ্ছেন পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তর জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা বা তাদের কোন দোসর কোন সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বা অতিথি হতে পারবেনা। আগে তাদের বিচার হবে। তারপর জাতি ঠিক করবে তারা রাজনীতি করতে পারবে কি পারবে না।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষষণ করলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী বলেন, ৭৫ পরবর্ততী সময়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী নেতাদের চট্টগ্রামে এনে ফখরুদ্দিন চৌধুরী আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করেছিলেন। তাকে উপজেলা প্রশাসনের মঞ্চে অতিথি করে আনা ঠিক হয়নি। বিষয়টি আমি দেখছি।

Advertisement