পুরো জাতি যখন ঐক্যের জন্য পাগলপারা, তখন ফেস দ্য পিপলে মুফতি আবু মুহাম্মাদ রাহমানির বক্তব্য এক জায়গারটা অন্য জায়গায় এনে এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছে এবং উস্কানিমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য আরও বেড়ে যেতে পারে। ভিডিওর শুরুতে Hook হিসেবে দেয়া অংশগুলো এমনভাবে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে মনে হবে মুফতি সাহেব সুন্নীদেরকে এভাবে পশুর চেয়েও খারাপ বলে গালি দিয়েছেন।
ভিডিওর শুরুতে জোড়া লাগানো অংশে মুফতি রাহমানির কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে, “আজকের আয়োজনে ওরা যেই আদর্শকে লালন করে, ওদের আদর্শের কোনো মানুষ…. আজকে সবাই এসেছে এখানে, বাংলাদেশের আপামর জনগণ একেবারে ডানপন্থী বামপন্থী যা বলেন সব এসেছে, কিন্তু ওই সুন্নী ঘরানার মানুষ, আমরা অন্ততপক্ষে আজকে দেখতে পাই নাই। এরা চতুষ্পদ জন্তু বরং এদের চেয়ে আরও নিকৃষ্ট। কোনো মানুষ যদি ইসরাইলের পক্ষ অবলম্বন করতে চায় বা করে, তাহলে আমি মনে করি, তার মধ্যে মনুষ্যত্ব নাই। এমনকি পশুত্ব আছে বললেও আমার মনে হয় পশুরা লজ্জা বোধ করবে। পশুদের মধ্যেও কিছু দয়া আছে, মায়া আছে।”
আমি কয়েকবার শুনে বুঝতে পারলাম যে, উপরের বক্তব্য মুফতি রাহমানির আসল বক্তব্য নয়, নিঃসন্দেহে বিকৃত বক্তব্য। কমেন্টে দেয়া লিংক থেকে পুরো বক্তব্য শুনলেই ধরা পড়বে ভিডিও এডিটিং এর কারসাজি।
কমেন্টে লিংকে ভিডিওর ০২:০৮ সেকেন্ডে এটা স্পষ্ট যে, মুফতি সাহেব ভারতের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন, “ভারত যেটা করেছে, সে শুধু ইসরাইলের পক্ষ অবলম্বন করেছে, তা নয়, সে গোটা মানবতার বিপক্ষে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে।”
ভারতসহ যারাই ইসরাইলের সমর্থন করে, কমনভাবে তাদের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে ( লিংকে দেয়া ভিডিওর ০২:৫০ সেকেন্ডে) মুফতি সাহেব উল্লেখ করেন, “সুতরাং এই জায়গাতে এসে কোনো মানুষ যদি ইসরাইলের পক্ষ অবলম্বন করতে চায় বা করে, তাহলে আমি মনে করি, তার মধ্যে মনুষ্যত্ব নাই। এমনকি পশুত্ব আছে বললেও আমার মনে হয় পশুরা লজ্জা বোধ করবে। পশুদের মধ্যেও কিছু দয়া আছে, মায়া আছে।”
ভারতের উদাহরণ দিয়ে ইসরাইলের সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে বলা মুফতি রাহমানির বক্তব্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে মনে হবে মুফতি সাহেব সুন্নীদেরকে পশুদের চেয়েও খারাপ বলেছেন।
এভাবে এক জায়গার বক্তব্য আরেক জায়গায় জুড়ে দিয়ে সাইফুর সাগর বা তার টীম এখানে পবিত্র কুরআনের আয়াতকেও ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। মুফতি সাহেব ইসরাইলের সমর্থনকারীদের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে (লিংকে দেয়া ভিডিওর ০৩:২২ সেকেন্ডে) কুরআনের আয়াত বলেছেন। আর ফেস দ্য পিপল সেটা লাগিয়ে দিয়েছে সুন্নীদের বিরুদ্ধে। এতে চরমভাবে সাংবাদিকতার নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের এ করুণ পরিস্থিতিতে অনৈক্য সৃষ্টি করতে পারে, এ রকম উস্কানিমূলক বিকৃত ভিডিও কনটেন্ট আমরা ফেস দ্য পিপল থেকে আশা করি না। এ ভিডিওর যে অংশে মুফতি রাহমানির বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে, সে অংশটুকু অতিসত্বর ডিলিট করে দেয়া হোক এবং মুফতি রাহমানির বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হোক। Hook দিয়ে মানুষকে কোন ভিডিও দেখতে আগ্রহী করার নামে উস্কানিমূলক বিকৃত বক্তব্য উপস্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফেস দ্য পিপল তার অনেক ইতিবাচক ভূমিকার দ্বারা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আমরা ফেস দ্য পিপলের শুভাকাঙ্ক্ষী। আমরা চাই ফেস দ্য পিপল সঠিক পথেই চলুক সবসময়।
মুফতি রাহমানি সাহেব মার্চ ফর গাজায় সুন্নীরা অংশ নেননি বলে যে দাবি করেছেন, তা সত্য নয়। আমাদের দেশে যাদেরকে সুন্নী বলে ডাকা হয়, তাদেরঢ় মধ্যে ছারছীনা, ফুলতলী, নেছারাবাদসহ আরও অনেক দরবারের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সক্রিয়ভাবে মার্চ ফর গাজায় অংশগ্রহণ করেছেন।
আমাদের মাঝে ঐক্য নষ্ট হয়, এমন সকল কথা ও কাজ বন্ধ করুন। জাতি অনৈক্য চায় না, জাতি মতানৈক্যসহ ঐক্য চায়।
ড. মোঃ শহীদুল হক
সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সভাপতি
যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়















