চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মানিক আব্দুল্লাহ নামের এক যুবদলকর্মী নিহত হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গরিব উল্লাহপাড়ার ভান্ডারী কলোনির একটি ভাড়া বাসায় এই ঘটনাটি ঘটে। এ সময় আরেক যুবদলকর্মীসহ ভাড়া বাসায় রাতের ভাত খাচ্ছিলেন মানিক আব্দুল্লাহ।
নিহত যুবদলকর্মী মানিক আবদুল্লাহ (৩৬) এলাকার গরিব উল্লাহপাড়া গ্রামের আবদুল মোতালেবের পুত্র। বিবাহিত জীবনে সে ১০ বছর বয়সী ১ পুত্র ও ৫ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তানের জনক।
স্থানীয়রা জানান, মানিক আবদুল্লাহ যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। বিগত সরকারের আমলে তাকে অনেক জুলুম নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এক সময় ভিসা নিয়ে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যান। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনে থাকার পর গতবছর দেশের পটপরিবর্তনের পর অক্টোবর মাসে দেশে ফিরে এসে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় রাজনীতিতে সে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিল।
প্রবাস থেকে দেশে আসার পর স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে নগরীতে একটা ভাড়া বাসায় থাকতেন। গ্রামে এলে কলোনির যেই বাসায় খুন হয়েছেন সেখানেই খাবার খেতেন। শনিবার রাতেও গ্রামে অবস্থানকালীন সময়ে এক যুবদলকর্মীসহ তিনি ওই বাসাটিতে ভাত খাওয়ার সময় ১০/১২ জন অস্ত্রধারী বাসায় ঢুকে মানিক আবদুল্লাহক লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় ঘটনাস্থলেই মৃত্যুের কোলে ঢলে পড়েন মানিক আবদুল্লাহ।
তাঁর শরীরের মাথা, ঊরু ও পায়ে গুলি লাগে। ফ্লিমী স্টাইলে হত্যাকান্ড সংঘটিত করে সন্ত্রাসীরা অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল যোগে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। তবে এই ঘটনার পর তার সাথে থাকা অপর যুবদলকর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান রাউজান থানা পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের পরিবারের দাবী, রাজনীতিতে মানিক আবদুল্লাহর একই দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ এই হথ্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এই ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

















