জুলাই বিপ্লব স্মরণে চবিতে র‍্যালি ও দোয়া অনুষ্ঠিত

315

‘জুলাই বিপ্লবের চেতনায় গড়ে তুলুন বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র’—এ স্লোগান ধারণ করে জুলাই বিপ্লব স্মরণে আজ মঙ্গলবার (১ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে র‌্যালি ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার।

Advertisement

বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্মরণ চত্বর (রেল স্টেশন) থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে চবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। র‌্যালি শেষে চবি প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন এবং চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে সমাপনী বক্তব্য রাখেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চবি যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি এবং চবি তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখার প্রশাসক ড. মোঃ শহীদুল হক।

উপাচার্য তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই বিপ্লবে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলনের ফলে আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এ আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে হবে।

উপাচার্য বলেন, সকল অন্যায়-অত্যাচার, বৈষম্য, গুম, হত্যাসহ সব ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলে আমাদের শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। এ বাংলাদেশকে ধারণ, লালন ও চর্চার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট নিরসন, শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদান, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতিসহ সকল ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে। উপাচার্য নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) বলেন, দীর্ঘদিন এদেশকে শাসন-শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। এ সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। তিনি একটি বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। উপ-উপাচার্য জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বলেন, জুলাই বিপ্লবের গণআন্দোলনে ছাত্র-জনতা যে অবদান রেখেছেন, তা জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরের অন্যায়-অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, হত্যার অবসান ঘটিয়ে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার প্রথমে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, পরবর্তীতে এক দফা আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন তরান্বিত হয়। এ ক্ষেত্রে অনেকেই ঘরে ফিরে গেলেও আমাদের প্রিয় শিক্ষার্থীরা ফিরে যায়নি। উপ-উপাচার্য শিক্ষার্থীসহ সকলকে সতর্ক থেকে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার বিপ্লব আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। এ লক্ষ্য ধরে রাখতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দেশের আপামর জনসাধারণকে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) জুলাই বিপ্লব ধারণকারীদের উদ্দেশে বলেন, এ বিপ্লব ধারণকারীদের জন্যই আজকের এ আয়োজন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দলকে কীভাবে ঘরে আবদ্ধ করে রাখা যায়—সে ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গণআন্দোলনের ফলে বিগত সরকারের সেসব ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে ছাত্র-জনতা সফলতা অর্জন করেছেন।

র‌্যালি এবং দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি ও ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, ছাত্র-ছাত্রী পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, শিক্ষক, অফিস প্রধান, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় সবাই ‘লাল ব্যাজ’ ধারণ করেন।

Advertisement