প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ হাসান মিয়া

প্রোস্টেট ও কিডনি স্টোনের আধুনিক চিকিৎসা এখন চট্টগ্রামে

287

ইউরোলজি চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা, যা মূত্রনালি এবং পুরুষ প্রজনন অঙ্গের বিভিন্ন সমস্যার নির্ণয় ও চিকিৎসা নিয়ে কাজ করে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত দুটি সমস্যা হলো প্রোস্টেটের অসুখ এবং কিডনিতে স্টোন হওয়া। এই দুইটি রোগই নীরবে শুরু হয়, কিন্তু সময়মতো চিকিৎসা না নিলে তীব্র জটিলতা সৃষ্টি হয়।

Advertisement

প্রোস্টেট হলো পুরুষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি যা মূত্রনালির আশপাশে থাকে এবং বীর্য উৎপাদনে ভূমিকা রাখে। বয়স বাড়ার সাথে প্রোস্টেটের আকার স্বাভাবিকভাবেই বাড়তে থাকে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘বিনাইন প্রোস্টেটিক হাইপারপ্লাসিয়া’ বা সংক্ষেপে বিপিএইচ। এটি কোনো ক্যান্সার নয়, তবে প্রস্রাবের নানান সমস্যার জন্ম দেয়। প্রোস্টেট বড় হয়ে গেলে প্রস্রাবের ধারা দুর্বল হয়ে যায়, বারবার প্রস্রাব লাগে, রাতের ঘুম ভেঙে বারবার টয়লেটে যেতে হয় এবং প্রস্রাব ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় প্রস্রাব একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেলে বিপজ্জনক হতে পারে।

অন্যদিকে, কিডনি আমাদের দেহ থেকে বর্জ্য ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করে দেয়। কিন্তু পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, অতিরিক্ত প্রোটিন ও লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ, দীর্ঘদিন ধরে ডিহাইড্রেশন, এমনকি পারিবারিক ইতিহাসের কারণে কিডনিতে খনিজ পদার্থ জমে কঠিন পাথর তৈরি হয়। এই পাথর ছোট হলে মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যেতে পারে, কিন্তু বড় হলে তা ইউরেটারে (মূত্রনালী) আটকে গিয়ে ভয়ানক ব্যথার সৃষ্টি করে।

কিডনিতে স্টোন হলে কোমরের এক পাশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়, অনেক সময় সেই ব্যথা তলপেট বা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া প্রস্রাবে জ্বালাভাব, রক্ত বা দুর্গন্ধযুক্ত মূত্র, বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে। যদি পাথর অনেক বড় হয়ে যায় বা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, তবে তা কিডনির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

এসব সমস্যার আধুনিক ও কার্যকর সমাধান এখন চট্টগ্রামেই পাওয়া যাচ্ছে। এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম-এ আন্তর্জাতিক মানের ইউরোলজি বিভাগ রয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে প্রোস্টেট ও কিডনি স্টোনের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লেজার সার্জারি, মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি, ইউরেটেরোস্কপি, ইএসডব্লিউএল (শকওয়েভ থেরাপি) ও টিইউআরপি-এর মতো নিরাপদ অপারেটিভ সেবা। এছাড়া, এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম-এ রোগীর সুস্থতা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানে একই ছাদের নিচে রোগ নির্ণয়ের জন্য রয়েছে উন্নত ল্যাব, ইমেজিং এবং স্ক্যান সুবিধা, যা রোগ নির্ণয়ে দ্রুততা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করে। কিডনি বা প্রোস্টেটের যেকোনো সমস্যার জন্য প্রথম থেকেই সঠিক ডায়াগনোসিস ও চিকিৎসা শুরু করলে রোগী অনেক জটিলতা থেকে বাঁচতে পারেন।

এই ধরনের সমস্যাগুলোর সময়মতো নির্ণয় ও চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। প্রোস্টেট সমস্যা এবং কিডনি স্টোন উভয়ের ক্ষেত্রেই আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে নিরাপদ এবং কার্যকর সমাধান পাওয়া সম্ভব। আজকের দিনে রোগের শুরুতেই সঠিক পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এগোলে এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সুস্থ জীবন ফিরে পাওয়া পুরোপুরি সম্ভব।

সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসাই এই রোগগুলো মোকাবেলার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা করা এবং বয়স ৫০-এর পর নিয়মিত প্রোস্টেট পরীক্ষা করানো অত্যন্ত জরুরি। যারা প্রস্রাবের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের উচিত দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

লেখকঃ
এমবিবিএস (সিএমসি), এমএস (ইউরোলজি)
সিনিয়র কনসালটেন্ট
ডিপার্টমেন্ট: ইউরোলজি
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

Advertisement