গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথমবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল পিএসজি। ইন্টার মিলানকে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। এবার অদম্য আর্সেনালের রক্ষণভাগে চিড় ধরাতে ঘাম ঝরেছিল তাদের। পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধের গোলে সমতা ফেরায় তারা। তারপর অতিরিক্ত সময়ে স্কোর সমতায় রেখে টাইব্রেকারে সফল ফরাসি চ্যাম্পিয়নরা। ৪-৩ গোলে টানা দ্বিতীয়বার ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন পিএসজি। আর ক্লাব ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেও স্বপ্নভঙ্গের কষ্ট পেতে হলো আর্সেনালকে।
শনিবার (৩০ মে) হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের পুসকাস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত এই মেগা ফাইনালে স্নায়ুযুদ্ধে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্লাব হিসেবে টানা দু’বার শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়ল পিএসজি।
টাইব্রেকারে গন্সালো রামোস ও গিওকেরেস প্রথম শটেই গোল করেন। দুয়ে পিএসজির দ্বিতীয় শটেও সফল। এবেরেচি এজে গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে মেরে আর্সেনালকে হতাশায় ভাসান। মেন্দেসকে রায়া রুখে দিয়ে তাদের ম্যাচে ফেরান। ডেকলান রাইস লক্ষ্যভেদ করেন। হাকিমি ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হয়ে জাল কাঁপান। মার্তিনেলিও জালের দেখা পান। লুকাস বেরালদি পিএসজির হয়ে চতুর্থ গোল করেন। মাগালহায়েস ক্রসবারের উপর দিয়ে বল মারলে শিরোপা জয়ের আনন্দে ভাসে পিএসজি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য দারুণ ছিল আর্সেনালের। ষষ্ঠ মিনিটেই কাই হাভার্টজের গোলে এগিয়ে যায় ইংলিশ ক্লাবটি। পিএসজির রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোল করেন জার্মান এই ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় পিএসজি। বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করে একের পর এক আক্রমণ চালালেও প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি তারা। আর্সেনালের সংগঠিত রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ডেভিড রায়ার দৃঢ়তায় পিছিয়েই বিরতিতে যেতে হয় ফরাসি দলকে।
বিরতির পর আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়ায় পিএসজি। ম্যাচের ৬২ মিনিটে খভিচা কাভারাতসখেলিয়ার ওপর ফাউলের ঘটনায় পেনাল্টি পায় দলটি। ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি নিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। তিন মিনিট পর স্পট-কিক থেকে গোল করে পিএসজিকে সমতায় ফেরান উসমান ডেম্বেলে।
এরপর ম্যাচে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে দুই দলই। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়েও আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে লড়াই। তবে দুই দলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকদের দৃঢ়তায় আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত শিরোপা নির্ধারণের জন্য ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপের পরীক্ষায় আর্সেনালকে হারিয়ে দেয় পিএসজি। দলের খেলোয়াড়রা নির্ভুল শট নিয়ে গোল করলেও আর্সেনালের কয়েকজন খেলোয়াড় ব্যর্থ হন। ফলে শেষ হাসি হাসে ফরাসি ক্লাবটি।

















