চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে টিসিভি ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

টাইফয়েডের টিকা মানব শরীরের জন্য শতভাগ হালাল ও বৈধ: ধর্ম উপদেষ্টা

303

অর্ন্তবর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে আমরা সফল হতে চাই। সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গাভী, ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতায় টাইফয়েডের যে টিকাটি দেয়া হচ্ছে তা ইসলামী শরিয়ত মতে মানব শরীরের জন্য শতভাগ হালাল ও বৈধ, হারামের কোন সংমিশ্রণ নেই, কোন কিছু মনে করারও নেই, মানব শরীরের জন্য এটি অত্যন্ত উপযোগী। শরীরের ক্ষতি করবে-এ রকম কোন উপাদানও এ টিকাতে নেই। টিকাটি নেয়ার পর সামান্য জ্বর ও ব্যাথা হতে পারে, তবে ভয়ের কিছুই নেই। এই টিকা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা দেশকে টাইফয়েডমুক্ত করতে পারবো।

Advertisement

আজ ১২ অক্টোবর রোববার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন (টিসিভি) ২০২৫-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন।

উপদেষ্টা বলেন, ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমে পৃথিবীর বহুদেশ এগিয়ে গেছে, আমরা পিছিয়ে আছি, আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা ছোটকালে দেখেছি, ঘাতকব্যাধি টাইফয়েডের কারণে মানুষ অন্ধ ও বিকলাঙ্গ হওয়ার পাশাপাশি শারীরিক অন্যান্য জঠিলত দেখা দেয়। এ দেশসহ সারা পৃথিবী থেকে করোনার মত মরণব্যাধি কোভিড-১৯ নির্মূল হয়েছে। এর পরেও শুধু আমার দেশ নয়, বিভিন্ন দেশে ভ্যাকসিনেশন বা টিকা কার্যক্রম নিয়ে অজ্ঞাত কারণে ভূল বুঝাবুঝি বা বিরূপ সমালোচনা আছে। আমাদের দেশে ফেসবুকেও আমার নানা ধরণের কথা দেখতে পাই। এর পেছনে একটি কারণও আছে। বহু বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় একটি ঘটনা ঘটেছে। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্বীকার করেনা। আসুন, আমরা সকলে মিলে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করি, মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রচারণা চালায়।

অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ১০ কোটি টাকার ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মেনিনজাইটিসের টিকা আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাজী সাহেবদেরকে দিয়েছি। মুসলিম দেশে টিকা গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক প্রচারণা আছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মেনিনজাইটিসের টিকা না দিলে সৌদি আরবে ঢুকতে দেয়া হয় না। গত বছর এক লাখ হাজীকে আমরা বিনামূল্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মেনিনজাইটিসের টিকা ও সনদ দিয়ে সৌদি আরবে হজ্বে পাঠিয়েছি। আগামী বছর আরও এক লক্ষ মানুষকে হজ্বে নেব। ভ্যাকসিনেশন নিয়ে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে আমরা একযোগে কাজ করছি।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন (টিসিভি) ২০২৫-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, ধর্ম উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ (যুগ্ম সচিব), স্বাস্থ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম, রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ তারেকুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. মোঃ ফরহাদ হাসেন, পরিচালক (হাসপাতাল এন্ড ক্লিনিকসমূহ) ডা. আবু হোসাইন মোঃ মইনুল আহসান, ইউনিসেফ’র চিফ অব ফিল্ড মিসেস মাধুরী ব্যানার্জী ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. ইমং প্রু চৌধুরী। স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তর/সংস্থার কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন (টিসিভি) ২০২৫-এর শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় সূত্র জানায়, টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে সারাদেশের ন্যায় সিটি করপোরেশনসহ চট্টগ্রাম বিভাগেও আজ ১২ অক্টোবর টিসিভি ক্যাম্পেইন উদ্বোধন হয়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ কর্মদিবস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র সমূহে এবং ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ৮ কর্মদিবস স্থায়ী ও অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র সমূহে অনুষ্ঠিত হবে ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন (টিসিভি)-২০২৫’। এ সময়ে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী /প্রাক-প্রাথমিক থেকে ৯ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিনামূল্যে এক ডোজ টিসিভি টিকা প্রদান করা হবে। এই টিকা পেতে জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য (১৭ ডিজিট) দিয়ে ওয়েব সাইটে নিবন্ধন করতে হবে। তবে এ বয়সী কেউ কোন কারণে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে তাকেও টিসিভি টিকা দেয়া হবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ৪৩ হাজার ৬১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ১ হাজার ২৮১টি স্থায়ী কেন্দ্র, ২৩ হাজার ৭৭৬টি আউটরিচ কেন্দ্রে মোট ৯৭ লাখ ৬৩ হাজার ৬৪১ জন শিশুকে টাইফয়েড টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তন্মধ্যে স্কুল পর্যায়ে ৬৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩৫ জন ও কমিউনিটি পর্যায়ে ৩২ লাখ ৭৮ হাজার ২০৬ জন শিশু। এছাড়া ক্যাম্পেইনে ভ্রাম্যমান হিসেবে ১২৯টি মপ-আপ টিম নিয়োজিত থাকবে।

Advertisement