শঙ্কর মঠে স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরির শুভ আবির্ভাব দিবস উদযাপন

106

সীতাকুণ্ডস্থ আর্ন্তজাতিক শঙ্কর মঠ ও মিশনের উদ্যোগে চতুর্থ আচার্য, মঠের রূপকার, ব্রহ্মবিদ ১০৮ পরমহংস শ্রীশ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজের ১১৭তম শুভ আবির্ভাব দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বার্ষিক অনুষ্ঠানের শেষ দিন আজ ২২ নভেম্বর শনিবার সকালে বেলুন উড়িয়ে ও শ্রীশ্রী বিশ্বশান্তি গীতাযজ্ঞের মাধ্যেমে আবির্ভাব দিবসের শুভ উদ্বোধন করেন মঠের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ।

Advertisement

শঙ্কর মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তড়িৎ কান্তি ভট্টাচার্য, কর্মকর্তা সুলাল কান্তি চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত মল্লিক, মাষ্টার অজিত কুমার শীল, অধ্যাপক অনজন দাশ, লায়ন সন্তোষ কুমার নন্দী, বাসুদেব দাশ, লায়ন দিলীপ কুমার শীল, অজিত কুমার শীল, সাংবাদিক রনজিত কুমার শীল, প্রদীপ মহাজন জহর, প্রকৌশলী কাকন শীলসহ মঠের কেন্দ্রীয়, জেলা, মহানগর, উপজেলা কমিটির কর্মকর্তা ও সাধু-সন্যাসীগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আয়োজিত মাঙ্গলিক কর্মসূচীর মধ্যে ছিল-স্বামীজির প্রতিকৃতিতে পুষ্পমালা দান, অখন্ড গীতা পাঠ, মঙ্গলারতি, গুরু বন্দনা, স্তব-স্তুুতি পাঠ, শীশ্রী চন্ডীপাঠ, শ্রীশ্রী গুরুপূজা, সমবেত প্রার্থনা,দুপুর ও রাতে প্রসাদ বিতরণ।

অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শঙ্কর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রীয় উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ বলেন, কিংবদন্তি সাধক যোগাচার্য পরমহংস শ্রীশ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ শঙ্কর মঠ ও মিশনের প্রাণ পুরুষ। সত্যের পাদপ্রদীপের আলোয় মানবজাতির নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতিকল্পে তিনি তাঁর অধ্যাত্ম জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি শহর, বন্দর, নগর, গ্রাম-গ্রামান্তরের আবালবৃদ্ধবনিতাকে গীতার সমন্বয়বাদের মূলমন্ত্রে দীক্ষিত করে জগৎ ও মানবের অশেষ কল্যাণ সাধন করে গিয়েছেন। শ্রীশ্রীমৎ স্বামী জ্যোতিশ্বরানন্দ গিরি মহারাজ অধ্যাত্ম সাধনার পাশাপাশি লোক কল্যাণে শঙ্কর মঠ ও মিশনে প্রতিষ্ঠা করেছেন অনাথ আশ্রম, দাতব্য চিকিৎসালয়, সংস্কৃত কলেজ ও অখন্ড গীতাপাঠসহ বিভিন্ন জনহিতৈষীমুলক প্রকল্প।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার রাজাপুর গ্রামে ১৩১৫ বঙ্গাব্দের ৫ই অগ্রহায়ণ তিনি আবির্ভূত হন। তাঁর পিতার নাম শরৎ চন্দ্র শর্মা ও মাতার নাম সত্যাবতী শর্মা। স্বামী স্বরূপানন্দ গিরি মহারাজ ও তাঁর গুরুদেব স্বামী ব্রহ্মানন্দ গিরি মহারাজ কর্তৃক আদিষ্ট হয়ে তিনি শঙ্কর মঠ প্রতিষ্ঠার কাজে ব্রতী হন। মাত্র সতের বছর বয়সে যোগাচার্য স্বামী স্বরূপানন্দ গিরি মহারাজের নিকট হতে তিনি বৈদিক মন্ত্রে দীক্ষা গ্রহণ করে সুকঠিন অধ্যাত্ম যোগ সাধনায় নিয়োজিত হন।

একনিষ্ঠভাবে সাধন ভজন করে তিনি আল্প সময়ের মধ্যে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। তাঁর গুরুদেবের দেহ রাখার পর শঙ্কর মঠ প্রতিষ্ঠার সম্পুর্ণ দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর উপর। দৃঢ় মনোবল,অক্লান্ত পরিশ্রম ও অসীম কর্মদক্ষতায় সেদিনের বাঁশের বেড়া, ছনের ছাউনির শঙ্কর মঠকে তিনি আজ সুরম্য অট্টালিকার অত্যাধুনিক কাঠামোয় রূপান্তরিত করে আন্তর্জাতিক গুণমানের শঙ্কর মঠ ও মিশন প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন। অগণিত পথভ্রষ্ট, লক্ষ্যভ্রষ্ট মানুষ তাঁর চরণাশ্রয়ে আশ্রয়লাভ কওে সঠিক পথ ও সঠিক লক্ষ্য খুঁজে পেয়ে জীবন ধন্য করতে পেরেছে।

Advertisement