জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখনো জ্বালানির দাম বাড়াইনি: প্রধানমন্ত্রী

42

বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দেশে এখন পর্যন্ত তেলের দাম বাড়ানো হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Advertisement

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান বক্তব্য দেওয়ার সময় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। আমরা দলীয় ইশতেহারে ও স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি বিশ্বাস করি ব্যক্তিগতভাবে পুঁথিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন অত্যন্ত বেশি জরুরি। বিএনপি সরকার যতবার রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে বারবার চেষ্টা করেছে এর প্রমাণ দিতে।’

‘বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার সবকিছু স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করছে’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশে তেল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হলেও, আমরা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত এ সিদ্ধান্তটি নেইনি। এ খাতে প্রতিদিন শতশত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে হলেও সরকার চেষ্টা করছে আন্তরিকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কারণ বর্তমান সরকার জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার।’

‘আমি আশ্বস্ত করতে চাই, জনগণের বিচলিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে আমরা যদি সবাই রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে এমনকি পারিবারিক পর্যায়ে যদি অমিতব্যায়িতা পরিহার করি, তার জন্য আমি দেশের সব মানুষকে অনুরোধ জানাচ্ছি,’ বলেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের পথ-মত ভিন্ন হতে পারে, আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক বিরোধ থাকতে পারে। তবে আমাদের মধ্যকার বিতর্ক-বিরোধ যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। দেশের স্বার্থে অবশ্যই সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। কারণ দেশের স্বার্থবিরোধী চক্র এখনো সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে।’

‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার’ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে এক বিশাল সংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরি এই মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু অর্থনীতি নয়, শিক্ষা ব্যবস্থায়ও বিপর্যয় নেমে এসেছিল। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও অবশ্যই কর্মমুখী করতেই হবে।’

‘নারীদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে না পারলে আমাদের কোনো উদ্যোগই সহজে সফল হবে না। এভাবে প্রতিটি সেক্টরকে চিহ্নিত করে সরকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার আগেই আমরা বিস্তারিতভাবে দেশের জনগণের সামনে দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার নিয়ে আমরা প্রকাশ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সই করেছিলাম। জনগণ আমাদের প্রতিটি অঙ্গীকারের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এবার আমাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পালা,’ বলেন তিনি।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন। পদকপ্রাপ্ত গুণীজন ও প্রতিষ্ঠানকে তিনি তার নিজের ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

Advertisement