বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপন

102

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ও উৎসবমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে।

Advertisement

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এর পর ডিসি পার্কের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত কাট্টলীস্থ অস্থায়ী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, সিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোঃ হুমায়ুন কবির, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন, সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম।

এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, পিবিআই, নৌ-পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনসাধারণ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে/ ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সকাল ৮টায় নগরীর জেলা স্টেডিয়ামে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, প্যারেড পরিদর্শন ও কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা স্টেডিয়ামে ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন। বিকেল ৩টায় জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং বিকেল ৪টায় সিআরবি শিরীষ তলায় জেলা প্রশাসন আয়োজিত বিজয় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা: মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাঁচ শতাধিক সদস্যের সম্মানে সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শিফাত বিনতে আরা ও সহকারী কমিশনার (ভুমি-চান্দগাঁও) প্লাবন কুমার বিশ্বাসের সঞ্চারনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ, টুপি ও উত্তরীয় পরিধান, নগদ অর্থ ও গিফট বক্স দিয়ে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী যুদ্ধে যারা শহিদ হয়েছে, লাঞ্চিত হয়েছে তারা কোন কিছু পাওয়ার আশায় যুদ্ধে যায়নি। পরিসংখ্যান বলছে, সুস্থ ও বিবেকবান মানুষের পক্ষে একটি বড় শক্তির পেছনে যুদ্ধে নেমে দেশ স্বাধীনতার কথা চিন্তা করতে পারার কথা নয়। এই পরিসংখ্যানকে মিথা করে দিয়ে পৃথিবীর বুকে একটি মানচিত্র আঁকার জন্য, নিজেদের বাসভূমি গড়ার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে এগিয়ে এসেছিলেন এটা কোন তুলনা দিয়ে প্রমাণ করে দেখানো যাবে না। এ জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অপরিসীম সাহস ও দেশপ্রেমকে মুল্যায়িত করার মত বড় মাপের মানুষ আমরা বলতে পারি। দেশ সবাধীনতার পওে আমরা বারবার পথ হারিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের যে অবদান ও স্বপ্ন, সে স্বপ্নকে দেখে আমরা স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্টেও বিরুদ্ধে সবসময় আন্দোলন করেছি। এখন আপনাদের আত্মত্যাগের কেউ নেই আমাদের পথ চলার পথ।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা একটি নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে প্রবেশ করেছি। আমরা আশা করছি, অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠুু নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেব। জনগণের রায়ে প্রতিফলিত হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামী ১০০ বছরের বাংলাদেশ গড়ার একটি সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। বিজয়ের এই দিনে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ ও সকল বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের বীর সন্তান। আজকের বিজয় দিবসে বীর সন্তান ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ প্রেমিক ও মহাকাব্যের একটি রচনা তৈরী করে আমাদের একটি রাষ্ট্র দিয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, দেশপ্রেমিক বীর সন্তানেরা এখনো আমাদের মাঝে আছে। আমরা তাদের সুস্থতা ও সুদীর্ঘ জীবন কামনা করি, যাতে আমাদের পরের প্রজন্ম বীর বীর সন্তানদের দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

Advertisement