গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরাতে ভোট দিন: মেয়র

142

দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রামের ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ কেন্দ্রে তিনি তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য জনগণের দীর্ঘ লড়াইয়ের ফল আজকের এই নির্বাচন। বহু বছর পর আমরা মুক্ত পরিবেশে, কোনো নিষ্পেষণ নির্যাতন ছাড়াই আমাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছি।

মেয়র বলেন, পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে একই কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে তিনি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সে সময় তাঁর নারী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজকে এখানে যে ভোটের পরিবেশ—আমি বলব এটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। আমরা বারবার বলেছি, আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব। সেই অধিকার আজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেই আমি মনে করি। এ জন্য প্রশাসন, সরকার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দকে তিনি সাধুবাদ জানান।

তিনি অতীতের ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, তখনকার নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং একাত্মতা ছিল। ফলাফল যাই হোক না কেন, সবাই তা মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতেন।

তিনি বলেন, আমরা কোনো সংঘর্ষ চাই না। আমরা চাই একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। আজও ফলাফল যাই হোক না কেন—এই আন্তরিকতা ও ঐক্যবদ্ধতা ধরে রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে তিনি বলেন, নগরীর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে এবং ২২ লাখ ভোটারের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তিনি সবসময় একটি ‘ক্লিন, গ্রীন, হেলদি ও সেফ সিটি’র কথা বলেছেন।

মেয়র বলেন, নিরাপদ শহরে সবাই যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে—কেউ যেন ভোট দিতে এসে অপমানিত বা নির্যাতিত না হয়। গত ১৬ বছরে নির্বাচন অনেক ক্ষেত্রে নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল। আমরা চাই আজকের পরিবেশ শেষ পর্যন্ত বজায় থাকুক।

তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভোটাররা শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করবেন, প্রিসাইডিং অফিসার কর্তৃক ফলাফল প্রকাশের পর সবাই ঘরে ফিরে যাবেন এবং নির্বাচন প্রকৃত অর্থেই গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হবে।

Advertisement