কামরুল ইসলাম দুলু: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ইকোপার্কের পাহাড়ী এলাকায় শ্বাসনালি কাটা অবস্থায় উদ্ধার হওয়া সেই সাত বছর বয়সের শিশু জান্নাতুল নিশা ইরাকে বাঁচানো গেলো না। শিশু ইরার মৃত্যুর খবরে উপজেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। ইরা তিনদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে চমেক হাসপাতালে শিশুটি মারা যায়।
এর আগে রোববার ও সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশুটির গলায় দু’দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। সোমবার শিশুটিকে ওয়ান– স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
গত রোববার সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে ওই শিশুকে গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে শিশুটিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বেলা ২টার দিকে সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনার আরও অন্তত ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের ধারে শিশুটি গলাকাটা অবস্থায় পড়ে ছিল। এ সময় তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল। সেখানে সড়কটির সংস্কারের কাজে থাকা শ্রমিকেরা শিশুটিকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করেন। তাদের পরনের কাপড় দিয়ে গলা পেঁচিয়ে রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করেন। পরে তারা দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান সেখান থেকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এদিকে এ ঘটনায় পুলিশ মাহবুব নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে থানায় নিয়ে গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড (সার্কেল) সাকিলা জাহান সুচনা বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এ ঘটনার রহস্য উদঘাটনে। আশা করছি দ্রুত অপরাধীকে আটক করতে পারবো।

















