ওবাইদুল আকবর রুবেল, ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত আরও এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আহত পইন্ন্যা ত্রিপুরা (২৫)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব।
এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পেলাগাজি দিঘী মোড় এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী তিন কিশোর নিহত হয় এবং বাসের শিশুসহ অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। নিহত পইন্ন্যা ত্রিপুরা ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল উরাংপাড়ার মন্দারাম ত্রিপুরার ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন এবং আড়াই বছর বয়সী এক সন্তানের জনক।
এর আগে একই দুর্ঘটনায় একই পাড়ার যুগেশ উরাংয়ের ছেলে উত্তম উরাং (১৮), তপন উরাংয়ের ছেলে তপু উরাং (১৪) এবং রাম উরাংয়ের ছেলে নয়ন উরাং (১৫) নিহত হন। তারা মোটরসাইকেলযোগে রাজমিস্ত্রীর কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়িতে একটি অনুষ্ঠান শেষে যাত্রীবাহী বাসটি চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর দিকে যাচ্ছিল। পথে পেলাগাজি দিঘী মোড় এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাসটির প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা তিন কিশোরের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান।
উরাংপাড়া জুড়ে আহাজারির শব্দ:
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল উরাংপাড়ায় এখন শুধু কান্না আর আহাজারির শব্দ। এক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় পুরো পাড়াজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা। সবার চোখে মুখে শোক আর অবিশ্বাসের ছাপ। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, আবার কেউ নিজের চোখের পানি সামলাতে পারছেন না।
নিহত পইন্ন্যা ত্রিপুরা (২৫) ছিলেন পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। আড়াই বছর বয়সী এক সন্তানের জনক তিনি। হঠাৎ এই মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন তার পরিবার। স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার স্ত্রী। ছোট্ট সন্তানটি কিছুই না বুঝে মায়ের কান্নার দিকে তাকিয়ে আছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আইয়ুব বলেন, ‘নিহত তিন কিশোর স্কুল বন্ধ থাকায় নাজিরহাটে পইন্ন্যা ত্রিপুরার সাথে রাজমিস্ত্রীর সহকারী হিসেবে কাজ করতে গিয়েছিল। কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তারা দুর্ঘটনার শিকার হয়।’

















