সাতকানিয়ায় কেমিক্যাল ও বিষাক্ত রং মেশানো মাছ ধ্বংস

36

জিয়াবুল হক, সাতকানিয়া প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বিষাক্ত রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো প্রায় ৮০ কেজি সামুদ্রিক লইট্টা ও পোয়া মাছ ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত। তবে সংশ্লিষ্ট মাছ ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়ায় তাদেরকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

Advertisement

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে সাতকানিয়া পৌরসভার একমাত্র বাজার দেওয়ান হাটে অভিযানটি পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান। এ সময় সাতকানিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসানও উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পচা ও বাসি মাছকে সতেজ দেখানোর জন্য বিষাক্ত রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে এসেছিল। এসব রং ও কেমিক্যাল মিশিয়ে মাছকে চকচকে ও তাজা দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল, যাতে ক্রেতারা সহজে বুঝতে না পারেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্ট দুই মাছ ব্যবসায়ী ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সটকে পড়েন। এরপর সেখান থেকে বিষাক্ত রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো ৮০ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। পরে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সেগুলো বাজার থেকে পরিবহন করে এনে উপজেলা পরিষদ হলরুমের পার্শ্ববর্তী একটি খালি জায়গায় পুঁতে ফেলা হয়।

বাজারে মাছ ক্রয় করতে আসা এনামুল হক বলেন, অনেক সময় বাজারে মাছ কিনতে এসে বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে কোনটি তাজা আর কোনটি কেমিক্যাল মেশানো। এভাবেই হয়তো দীর্ঘদিন ধরে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে। তাই প্রশাসনের এমন অভিযানকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফাহাদ হাসান বলেন, পচা মাছ সংরক্ষণ ও বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরনের রং ও কেমিক্যাল ব্যবহার করেন। এতে মাছের স্বাভাবিক রং পরিবর্তিত হয়ে কৃত্রিমভাবে উজ্জ্বল দেখায়। কিন্তু এসব মাছ মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এসব মাছ বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে আসা হয়েছিল। খবর পেয়ে সেগুলো জব্দ পরবর্তী ধ্বংস করা হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হক বলেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মাছকে সতেজ দেখাতে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও রং ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Advertisement