উদীচীর উদ্যোগে চট্টগ্রামে বর্ষবরণ আয়োজন

27

শত বাধা পেরিয়ে মোরা বাংলার গান গাই” এই আহবান কে সামনে রেখে নন্দনকানন কাটাপাহাড় চত্বরে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা।

Advertisement

সকাল ৮ টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বর্ণিল এই আয়োজনের সূচনা হয়। উদীচীর শিল্পীকর্মী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীকর্মী, সুহৃদ এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহনে মুখরিত হয়ে উঠে এই আয়োজন।

গান, কবিতা,ননৃত্যর তালে তালে জীবনের গান গেয়ে উদীচী শিল্পীকর্মীরা শিহরণ জাগিয়ে বরণ করে নিয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।

এই আয়োজনের প্রারম্ভে সংক্ষিপ্ত কথামালায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক জসীম চৌধুরী সবুজ। উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সহসভাপতি সুনীল ধরের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উদীচী সাধারন সম্পাদক এডভোকেট অসীম বিকাশ দাশ, সহসভাপতি ডা.অসীম চৌধুরী। কথামালায় অংশগ্রহন করেন বিশিষ্ট নাট্যকার, কবি অভীক ওসমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সিনিয়র কালচারাল অফিসার সৈয়দ আয়াজ মাবুদ, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতি সংগঠক বৃজেট ডায়েস।

কথা মালায় অংশ নিয়ে অতিথিরা বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক, সর্বজনীন ও প্রগতিশীল চেতনার প্রতীক, যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করে এটি কেবল নতুন বছরকে বরণ নয়, বরং মৌলবাদ ও সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, যা ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের মাধ্যমে শুরু হয়ে আজ বাঙালির আত্মপরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  বর্ষবরণ মানেই সব ভেদাভেদ ভুলে একসাথে পথচলা। মঙ্গল শোভাযাত্রা আমাদের ঐক্যের প্রতীক, যা অপশক্তির বিরুদ্ধে অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা দেয়।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধারণ করার দিন। এটি আমাদের শিকড়ের সাথে সংযুক্ত করে এবং বিশ্ব দরবারে বাঙালি পরিচয়কে উজ্জ্বল করে
: বর্ষবরণ হলো শৃঙ্খল ভাঙার উৎসব, যা উদীচীর মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে অন্যায় ও অনুশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়,বৈশাখী মেলা, হালখাতা, গান-বাজনা এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের মেলবন্ধন—এসবই আমাদের লোকজ সংস্কৃতির ধারক,  পুরাতন বছরের ব্যর্থতা, গ্লানি পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে, নতুন আলোয় সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় এবং পহেলা বৈশাখ মানেই বাঙালির প্রাণের স্পন্দন—উদারতা, আনন্দ, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলা।

বিশিষ্ট সাংবাদিক ও উদীচীর সভাপতি জসীম চৌধুরী সবুজ বলেন,বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং মৌলবাদী গোষ্ঠীর আস্ফালন রুখে দিতে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আগামীর বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে সুসংসত অবস্থানে আসীন করতে হলে সকল অপশক্তির ষড়যন্ত্র নসাৎ করার জন্য সাংস্কৃতিক জাগরণের বিকল্প নেই।

বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে একক সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শুভাগত চৌধুরী,প্রীতিকনা শীল, অপর্ণা চৌধুরী, সীমা দাশ, নীলাশা দাশ, অর্নব দাশ, সুভদ্রা চৌধুরী নৃত্য পরিবেশন করেন মাধুরী নৃত্যকলা একাডেমী, দি একাডেমী অফ ক্লাসিকাল এন্ড ফোক ডান্স ও সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমী, আবৃত্তি করেন, শীলু ভট্রাচার্য্য জয়শ্রী মজুমদার, জয়তী ঘোষ, শান্তা সেনগুপ্ত,দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীকর্মীরা এবং ঐকতান সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ।

পরিশেষে উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীকর্মীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনের সমাপ্তি হয়।

Advertisement