‘লোভ-লালসাকেও কোরবানি দিতে হবে’: ডিসি

1

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আযহার কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মানুষের ভেতরের লোভ, লালসা ও হিংসাকেও কোরবানি দিতে হবে। তিনি বলেন, “আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

Advertisement

আজ বৃহস্পতিবার ( ২৮ মে) ঈদুল আযহা উপলক্ষে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে আমি, আপনি এবং আমাদের সন্তানেরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। কোরবানির মাধ্যমে আমাদের পাপ, সংকীর্ণতা ও কলুষতা দূর করে সবার জন্য বাসযোগ্য সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিতে হবে।”

ঈদকে ঘিরে জেলা প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে “দাম কমবে পণ্যের, উৎসব হবে সকলের” শীর্ষক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ধনী, গরিব ও মধ্যবিত্ত—সব শ্রেণির মানুষ যেন সমানভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। এ জন্য মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

তিনি জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে চট্টগ্রামের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন চেইনশপের ব্যবসায়ীরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, “চট্টগ্রামের একটি সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক ঐতিহ্য রয়েছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সূচনা অনেক সময় চট্টগ্রাম থেকেই হয়। এবারও ব্যবসায়ীরা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।”

বক্তব্যের শুরুতে মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের চেতনাকে ধারণ করেই আমরা আজ এখানে একত্রিত হয়েছি।”

দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আমরা সবাই শান্তি ও সম্প্রীতি চাই। এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক।”

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২৮ মে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত জামাতে ইমামতি করেন নগরীর ধনিয়ালাপাড়াস্থ বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদ্রাসার সাবেক প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ ড. সাইয়েদ মুহাম্মদ আবু নোমান।

প্রধান জামাতে অংশ নেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুবুল হক,পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং এলাকার সহস্রাধিক মুসল্লি।

জামাতের আগে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। নামাজ শেষে মুনাজাতে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণ কামনা করা হয়।

নামাজ শেষে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্যরা কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, আলেম ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement