প্রফেসর ডাঃ মোঃ মোখলেছুর রহমান

হার্নিয়া: সচেতনতা নিশ্চিত করবে সুরক্ষা

15

শরীরের কোথাও ছোট করে ফুলে উঠলে অনেকেই সেটাকে তেমন গুরুত্ব দেন না। বিশেষ করে পেটের নিচের দিকে বা পায়ের উপরের অংশে (উরু বা কুঁচকি) এমন ফোলা দেখা গেলে বেশিরভাগ সময় মানুষ এটাকে স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এটি হতে পারে হার্নিয়ার লক্ষণ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই ছোট সমস্যাটাই ধীরে ধীরে বড় জটিলতায় পরিণত হতে পারে।

Advertisement

হার্নিয়াতে শরীরের ভেতরের কোন অঙ্গ বা টিস্যু দুর্বল পেশীর ফাঁক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এটি সাধারণত পেটের দেয়াল বা কুঁচকির অংশে দেখা যায়। বিশেষ করে, পুরুষদের মধ্যে ইনগুইনাল হার্নিয়া (কুঁচকির হার্নিয়া) সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এছাড়া নাভির আশেপাশে (আম্বিলিক্যাল) বা পূর্বের কোন অপারেশনের দাগের জায়গায় (ইন্সিশনাল) হার্নিয়াও হতে পারে। বিশ্বজুড়ে এই রোগ উল্লেখযোগ্য হারে দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কোন না কোন সময়ে প্রায় ২৫% পুরুষ এবং ২–৩% নারী হার্নিয়ায় আক্রান্ত হন। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২০ মিলিয়নের বেশি হার্নিয়ার অপারেশন করা হয়, যা থেকে বোঝা যায় সচেতন থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

হার্নিয়ার প্রধান লক্ষণ হলো; শরীরের কোন অংশে ফোলাভাব, যা বসা থেকে দাঁড়ালে বা কাশি দিলে কিংবা ভারী কিছু তুললে বড় এবং শুয়ে পড়লে ছোট হয়ে যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তিও থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা হলো যখন হার্নিয়া আটকে যায় (ইনকোর্সেরাটেড) বা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় (স্ট্র্যাঙ্গুলেটেড হার্নিয়া)। তখন হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বমি এবং ফোলা অংশ শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, যা জরুরিভিত্তি অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করে ফেলা উচিৎ।

হার্নিয়ার ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে; ভারী কাজ করা, দীর্ঘদিন কাশি থাকা, কোষ্ঠকাঠিন্য, স্থূলতা, পূর্বের কোন অপারেশন ইত্যাদি। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, যার চিকিৎসার একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো সার্জারি। বর্তমানে ‘মেশ’ ব্যবহার করে দুর্বল অংশকে শক্ত করা হয়, যা পুনরায় হার্নিয়া হওয়ার ঝুঁকি কমায়। মেশ হলো হার্নিয়া অপারেশনে ব্যবহার করা এক ধরনের সিন্থেটিক জাল বা নেট-এর মতো। ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে এই সার্জারি করা সম্ভব। ফলে রোগীর ব্যথা কম হয় এবং তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে আধুনিক পদ্ধতি ও উন্নত ব্যবস্থাপনায় হার্নিয়ার চিকিৎসা হয়ে থাকে। এখানে আছে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, অভিজ্ঞ মেডিকেল টিম, সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেবা। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ওপেন বা ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামে সেবা প্রদান করা হয়।

হার্নিয়া কখনোই নিজে নিজে ভালো হয় না, বরং সময়ের সাথে এটি আরও জটিল হয়। তাই শরীরে কোন অস্বাভাবিক ফোলাভাব বা পরিবর্তন দেখা দিলে দেরী না করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

লেখক
প্রফেসর ডাঃ মোঃ মোখলেছুর রহমান
এমবিবিএস, এমএস (জেনারেল সার্জারি)
সিনিয়র কনসালটেন্ট
জেনারেল এন্ড ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি
এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম

Advertisement