ইঞ্জিন সংকটে ধুকছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। বহরে থাকা ৪৪ শতাংশ মেয়াদোত্তীর্ণ লোকোমোটিভ নিয়ে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে সংস্থাটি। একদিকে পুরনো ইঞ্জিন,যন্ত্রাংশের অভাব, অন্যদিকে সীমিত সক্ষমতায় রেল সেবার মান নামছে তলানিতে। এমন বাস্তবতায় নতুন লোকোমোটিভ আমদানির বিকল্প দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
রেলট্র্যাকে যুক্ত হওয়ার পর একটি ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল ধরা হয় ২৫ বছর। সব মিলিয়ে বর্তমানে রেলওয়ের বহরে আছে ২৭১টি লোকোমোটিভ। যার মধ্যে মিটারগেজের ১৫০টি ইঞ্জিনের ৬৬ দশমিক ছয় সাত শতাংশেরই মেয়াদ পার। আর ব্রডগেজে ১২১টির মধ্যে ২০ দশমিক ছয় ছয় ভাগের আয়ুষ্কাল নেই।
প্রতিদিন যেখানে ৯০ থেকে ১০০টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭০ থেকে ৭৫টি। অন্যদিকে পুরাতন ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মিটারগেজের ইঞ্জিন সংকটে কাঙ্খিত যাত্রীসেবা দিতে পারছে না রেল। যে কারণে বাড়ছে যাত্রী ভোগান্তি।
রাজধানীর কমলাপুরের রেলওয়ে ওয়ার্কশপ-ঢাকা লোকো শেডে দেখা যায়, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রস্তুত করা হচ্ছে ট্রেনের ইঞ্জিন। হুইসেল বাজে, ট্রেনও চলে। তবে-গতি যেন আগের মতো নেই। কারণ, এসব লোকোমোটিভের ৪৪ শতাংশই মেয়াদোত্তীর্ণ-লক্করঝক্কড়!
ওয়ার্কশপ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু ইঞ্জিন থাকার কারণে বারবার এগুলো ফেইল করে। একেকটা ইঞ্জিনের বয়স ৩০-৪০ বছর। তারা জানান, কোনও ইঞ্জিন আজ মেরামত করলে কাল আবার নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে প্রতিদিনই মেরামতের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
রেলসেবায় ইঞ্জিনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মো. হাদিউজ্জামান বলেন, জোড়াতালি দিয়ে সেবা হয় না। অন্তত ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনার পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইঞ্জিন সংকটের কথা স্বীকার করছেন খোদ রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। বলছেন, অতীতে রেল বড় প্রজেক্ট নিয়েছে কিন্তু নজর দেয়নি মূল সমস্যায়।
এ অবস্থায় প্রয়োজনে বিদেশি দাতা সংস্থা থেকে ফান্ড নিয়ে রেলের প্রকল্প নেয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। সেক্ষেত্রে ইঞ্জিন সংকট সমাধানে আপাতত এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে মত রেল সংশ্লিষ্টদের।
















