দশ বছরেই পিআইও মিল্টনের সম্পদের পাহাড়

305

চট্টলা নিউজঃ সরকরি চাকরিতে প্রবেশের মাত্র ১০ বছরেই বদলে গেছে পটিয়া উপজেলার মধ্যম হাঁইদগাঁও গ্রামের মিল্টন দস্তিদার ও তার পরিবারের অবস্থা।

Advertisement

যে কারো মনে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন জাগতে পারে সম্পদ কেমনে-সে কি তাহলে জাদুর বাক্স পেলো নাকি রুপকথার সে আলাদিনের চেরাগ হাতে পেলো? সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিল্টনের উপর নজর পড়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের। অনুসন্ধান করতে গিয়ে একে একে বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল।

এতো অল্প সময় সরকারি চাকরির মেয়াদকালে অঢেল সম্পত্তির মালিক কিভাবে হলেন, তার আয়ের উৎস খুঁজতেই মাঠে নেমেছে দুদক এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের অনুসন্ধানী টিম।

ইতিমধ্যে দুর্ণীতির বেশ কিছু আলামতও হাতে এসে পৌঁছেছে আমাদের নিকট। জানা গেছে বেশ কয়েকটি ব্যাংক অ্যকাউন্ট এ অস্বাভবিক লেনদেনের তথ্যও।

জানা যায়, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ৫ নং হাইদগাঁও ইউনিয়নের মধ্যম হাইদগাঁও গ্রামের আশুতোষ দস্তিদারের ছোট ছেলে মিল্টন দস্তিদার। বড় ভাই লিটন দস্তিদার ওই গ্রামের স্থানীয় মুক্তলতা ক্লাবের সভাপতি এবং চাকুরীজীবি।

২০১২ সালের শুরুতে ফেনী জেলায় সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন মিল্টন দস্তিদার। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) কর্মকর্তা হিসেবেই বর্তমানে কর্মরত আছেন ডিপ্লোমা এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। তার বর্তমান কর্মস্থল চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলায়।

মিল্টনের চাকরি হওয়ার পর বদলে যায় তার পুরো পরিবারের অবস্থা। নিজের পৈতৃক বাড়ীর পাশেই ৩ তলা “অরন্য নীড়” নামের বিলাসবহুল আরো একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন মিল্টন। বিলাসবহল দৃষ্টিনন্দন বাড়িটির আনুমানিক ব্যয় হিসেব করলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ খরচ হবে এমনটাই ধারণা করছেন এলাকাবাসী।

তাছাড়া চট্টগ্রাম শহরে কিনেছেন বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট। ভবণ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সিপিডিএল থেকে চট্টগ্রাম শহরের দেবপাহাড় এলাকায় প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যে তিনি এ ফ্ল্যাটটি কিনেছেন। ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট নম্বর ফাইভ-সি। শুধু তাই নয় ওই ফ্ল্যাটে ইন্টেরিয়র ও এক্সটেরিয়র করিয়েছে আরো ৪০-৫০ লাখ টাকায়।

এতেই শেষ নয়, কয়েকটি ব্যাংক থেকে স্ত্রী, বাবা ও নিজ নামে সঞ্চয়পত্রও কিনেছেন প্রায় বার কোটি টাকার। স্ত্রী ও বাবার নামে কেনা সঞ্চয়পত্রগুলোর নমিনীও মিল্টন নিজেই।

বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে, গ্রামীণ এলাকার বিভিন্ন ব্যাংকে তার এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র আছে। বিশেষ করে ইউনিয়ন ব্যাংক হাটহাজারী রোড সরকারহাট শাখা, ন্যাশনাল ব্যাংক জুবলী রোড শাখাসহ কয়েকটি ব্যাংকে এফডিআর ও সঞ্চয় পত্রের লেনদেন হওয়ার তথ্যও এসেছে অনুসন্ধানী টিমের হাতে।

এছাড়া সূত্র জানিয়েছে স্ত্রী’র ভাইয়ের নামেও কয়েক কোটি টাকার ডিপিএস ও এফডিআর রয়েছে এই কর্মকর্তার। গ্রাম ও নগরে তার স্ত্রী, বাবা ও ভাইদের নামে বেশ কিছু দোকান ও জায়গাতে বিনিয়োগ করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

পাড়া প্রতিবেশীদের দেয়া তথ্যমতে জানা যায় নিজ গ্রামের বাড়ির বিভিন্ন এলাকায় নিজ নামে ও স্ত্রীর নামে অসংখ্য জায়গা জমি ও দোকানপাট ক্রয় করেছেন মিল্টন দস্তিদার।

এছাড়াও পটিয়া পৌরসভা বাইপাস এলাকায়ও জায়গা ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। ভারতে অর্থ পাচারেরও তথ্য এসেছে এলাকার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীদের সূত্রে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের পটিয়ায় নিজ গ্রামে কোটি টাকা দামের ১৮ শতকের পৃথক দুটি জায়গাও কিনেছেন এমন তথ্য উঠে আসে এলাকাবাসীর কাছ থেকে।

এতো অল্প সময় সরকারি চাকরির মেয়াদকালে অঢেল সম্পত্তির মালিক কিভাবে হলেন, মূলতঃ তার আয়ের উৎস খুঁজতেই অনুসন্ধানে নেমেছে দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এছাড়া রয়েছে নারী কেলেঙ্কারী!-তাছাড়া বিয়ের আগে থেকে মিল্টন নারী কেলেংকারীর মত জঘন্য কান্ডেও জড়িয়ে পড়েছেন বলে সূত্রে জানা গেছে। বর্তমান স্ত্রীর সংসার ছাড়াও আরেকটি সংসার করেছেন মিল্টন এবং সেই পরিবারে একটি সন্তানও রয়েছে!

২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক নারীর সাথে গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়ান এ প্রকৌশলী। বিয়ের আশ্বাসে তার সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপনও করেন তিনি।

পরবর্তীতে মেয়েটি বিয়ে করতে চাপ দিলে মিল্টন বিয়ে করতে রাজি হননি বরং তার কুকর্ম ফাঁস করতে চাওয়ায় ওই নারীকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন মিল্টন।

যা পরবর্তীতে মিল্টনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি জিডি করেন ওই নারী। এ ঘটনায় চট্টগ্রামে এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তার মধ্যস্থতায় থানায় মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান এই কর্মকর্তা।

তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মিল্টনের অনেক বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। ওই নারীর সাথে মিল্টনের এখনো যোগাযোগ রয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে অনুসন্ধানী টিমের হাতে।

অবশ্য এই ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার সাবেক ওসির সাথে আমাদের অনুসন্ধানী টিম যোগাযোগ করেছেন এবং বর্তমান ওসি নেজাম উদ্দিনের সাথেও এ ব্যাপারে কথা বলছেন অনুসন্ধানী টিম।

অভিযোগ আছে, চাকরিতে যোগদান করেই তিনি অগাধ সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন। স্থানীয় এলাকাবাসীদের সাথে কথা হলে অনেকেই বলেছেন, আমাদের এই গ্রামের ছেলে সরকারি চাকরি করে বলে এতোদিন আমরা গর্ব করতাম। তবে চাকরির মেয়াদ ৩/৪ বছর হওয়ার পর থেকে হঠাৎ বিলাসী কাজ কারবার দেখে অনেকর ধারণা পাল্টে যায়।

তাদের মতে মিল্টনদের পারিবারিক অবস্থা এলাকার অন্য দশজনের চাইতে কিছুটা ভাল থাকলেও এতটা উন্নত ছিলনা যা বর্তমানে দেখছি। মূলত মিল্টন সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর তাদের অবস্থার আমুল পরিবর্তন হয়েছে। আবার কেউ কেউ তার সব সম্পত্তির হিসাব তদন্ত করলে আয়ের উৎস বেরিয়ে আসবে বলেও মন্তব্য করেছেন।

নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে এর সত্যতা ও ঘটনা সম্পর্কে জানার চেষ্টায় মিল্টনের ব্যবহৃত ০১৬—ও ০১৮——৮৭ নাম্বার দুটিতে ফোন করেন অনুসন্ধানী টিম।

একটি ফোনে সংযোগ পাওয়া না গেলেও অপরটিতে তিনি ফোন ধরে কথা বলেছেন। তবে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন রেখে দেন। পরে তার সাথে আর যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।

দুদকের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর/রূপান্তর করে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন।

একজন সামান্য বেতনের সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এত অল্প সময়ে কিভাবে অঢেল সম্পতির মালিক হয়েছেন তার উৎস খুঁজতে অবশ্যই অনুসন্ধান করবে দুদক। আশা করি শীঘ্রই পুরো প্রতিবেদন হাতে নিয়ে আইনী প্রক্রিয়ায় আয়ের রহস্য উদঘাটন করা হবে।

সূত্রঃদেশেরখবর ডট নিউজ

Advertisement