দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের পর দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি রাষ্ট্র ক্ষমতায় রয়েছে উল্লেখ করে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, আমাদের এখন সবচেয়ে বেশি সজাগ থাকতে হবে। কারণ পদে পদে দল ও সরকারকে কলঙ্কিত করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে নগরীর বিবিরহাট গরু বাজার সংলগ্ন পিডিবি অফিসের মাঠে পাঁচলাইশ থানা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচশত পরিবারের হাতে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের সবাইকে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে। যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে, তারা এখনো অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারকে অকার্যকর প্রমাণের চেষ্টা করছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মহসিন কলেজ মাঠের উন্নয়নকাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তিনি সকালে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করেছেন। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, আমি প্রায় দুই ঘণ্টা পুরো মাঠ ঘুরে দেখেছি। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের বলেছি—একটি বাঁশও যদি দেখাতে পারেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এমন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মেয়র বলেন, কোনো উন্নয়নকাজে অনিয়ম থাকলে শিক্ষার্থীদের তা তুলে ধরার অধিকার রয়েছে। তবে যাচাই বাছাই ছাড়া মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শুধু মেয়র বা সিটি কর্পোরেশনের ভাবমূর্তি নয়, চট্টগ্রামের সামগ্রিক ভাবমূর্তিও ক্ষুন্ন হয়।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প নিয়ে এ ধরনের মিথ্যা প্রচারণা হলে ভবিষ্যতে তারা চট্টগ্রামে উন্নয়ন প্রকল্প দিতে অনাগ্রহী হতে পারে। এর ক্ষতি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়, ক্ষতি হবে চট্টগ্রামবাসীর। তাই কোনো অভিযোগ থাকলে আগে ঘটনাস্থলে গিয়ে সত্যতা যাচাই করতে হবে।
মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের লিগ্যাল এইড কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান মেয়র।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সম্প্রতি নগরীতে স্মরণকালের অন্যতম সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সাত দিনে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ মিলিমিটার এবং একদিনে সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় পানি জমলেও বৃষ্টি থামার পর দ্রুত পানি নেমে গেছে।
তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের এখনো প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। চলমান কাজ সম্পন্ন হলে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় ইনশাআল্লাহ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
নগরীর বিভিন্ন উন্নয়নকাজ প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, গত ২০ মাসে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা ও অবকাঠামোসহ নানা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী দিনেও এসব কাজ অব্যাহত থাকবে। নগরীর অলিগলিতে যেসব রাস্তার সমস্যা রয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব সমস্যার সমাধান করা হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি ও পাঁচলাইশ থানা যুবদলের আহবায়ক মোহাম্মদ আলী সাকির সভাপতিত্বে এবং পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আলম শফির সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আর ইউ চৌধুরী শাহিন, আহবায়ক কমিটির সদস্য ইসকান্দার মির্জা, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মনজুরুল আলম মঞ্জু, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনির আহম্মেদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল আলম মুন্সী, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সেলিম উদ্দিন রাসেল, পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক এনামুল হক ইনু, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলী, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক সামিয়াত আমিন চৌধুরী জিসান সহ মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
















