চিকিৎসকের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ এবং হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবি

3

চিকিৎসকের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ এবং হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শনিবার (২২ আগস্ট) মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

মানব বন্ধন কর্মসূচী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এর সভাপতিত্বে এবং বিসিএস স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম, চট্টগ্রাম এর সমন্বয়কারী অধ্যাপক ডাঃ বেলায়েত হোসেন ঢালী এর পরিচালনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুর রব, অধ্যাপক ডাঃ আনিসুল হোসেন বাবুল, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হাসানুজ্জামান, অধ্যাপক ডাঃ নুরুল হুদা, অধ্যাপক ডাঃ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ডাঃ ফয়েজুর রহমান, ডাঃ নুরুল করিম চৌধুরী এবং ডাঃ ফাহমিদা রশিদ স্বাতী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ওপর সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন বিসিএস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের ওপর কর্মস্থলে হামলা শুধু একজন ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি চিকিৎসকদের নিরাপত্তা, হাসপাতালের কর্মপরিবেশ এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিদিন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মানুষের জীবন রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু কর্মস্থলে হামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা তাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত রোগীসেবা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর পড়ে।

চিকিৎসকদের প্রধান দাবিসমূহঃ

১. দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. হাসপাতালকে নিরাপদ কর্মস্থল হিসেবে নিশ্চিত করা

প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রিত প্রবেশ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাকর্মী, সিসিটিভি এবং জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানির ক্ষেত্রে শূন্য-সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করতে হবে।

৩. জাতীয় Healthcare Worker Safety Policy প্রণয়ন, পরিপত্র জারি ও বাস্তবায়ন

চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ও বাধ্যতামূলক জাতীয় Healthcare Worker Safety Policy/Guideline প্রণয়ন করে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়/সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট পরিপত্র বা প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। উক্ত পরিপত্রে হাসপাতালের নিরাপত্তা, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি আচরণবিধি, হামলা বা হুমকির ঘটনায় তাৎক্ষণিক করণীয় এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাসমূহ দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন ও ঝুলিয়ে রাখার বাধ্যতামূলক নির্দেশনা প্রদান করতে হবে, যাতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও স্বজন—সকলেই হাসপাতালের নিরাপত্তা ও আচরণবিধি সম্পর্কে অবগত থাকেন।

রোগী বা স্বজনদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অভিযোগের নামে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর হামলা, হুমকি, হয়রানি বা ভাঙচুর গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সরকারের প্রতি আহ্বানঃ

চিকিৎসকের নিরাপত্তা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা বা বিশেষ দাবি নয়; এটি একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থার মৌলিক শর্ত।

নিরাপদ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী মানেই নিরাপদ রোগীসেবা।

আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি—

চিকিৎসকের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।
হাসপাতালকে নিরাপদ কর্মস্থলে পরিণত করতে হবে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তায় কার্যকর জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নির্দেশনা পরিপত্র আকারে জারি করে দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

বিসিএস বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের যেকোনো কার্যকর ও বাস্তবমুখী উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

Advertisement