বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি), চট্টগ্রাম ১৯৬২ সাল থেকে দেশের দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি সুনাম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
সম্প্রতি ২৩ আগস্ট যমুনা টেলিভিশনে বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে Skill Verification Program (SVP) Assessment-সংক্রান্ত অর্থ লেনদেন ও ঘুষের অভিযোগ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রচারিত হয়েছে। যার শিরোনাম ছিল -“চট্টগ্রাম বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরি টিটিসি যেন ঘুষের হাট: নির্ধারিত ঘুষের রেটও”। উক্ত প্রতিবেদনে বিকেটিটিসি চট্টগ্রামের নাম ও প্রতিষ্ঠানটির SVP কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে সাধারণ বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান বিকেটিটিসি চট্টগ্রামের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী পলাশ কুমার বড়ুয়া।
তিনি বলেন “আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি যে, Skill Verification Program (SVP) Assessment-এর নামে কোনো অননুমোদিত অর্থ আদায়, ঘুষ গ্রহণ বা অবৈধ লেনদেন বিকেটিটিসি চট্টগ্রামের অনুমোদিত কার্যক্রমের অংশ নয়। কোনো ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানটির নাম, পরিচয় বা SVP কার্যক্রম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করে থাকলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বা ব্যক্তিবর্গের; প্রমাণ ছাড়া তার দায় প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর আরোপ করা সমীচীন নয়।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে Skill Verification Program-এর আওতায় দক্ষতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বিকেটিটিসি চট্টগ্রাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের দক্ষতার স্বীকৃতি নিশ্চিত করা।
সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে যেসব অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে বিকেটিটিসি চট্টগ্রামের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী সরাসরি জড়িত – এমন কোনো যাচাইযোগ্য লিখিত অভিযোগ বা প্রমাণ প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতীয়মান হয়নি। বরং প্রতিবেদনে কেন্দ্রের বাইরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ও উঠে এসেছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ যাচাই ও তদন্ত ছাড়া পুরো বিষয়টির দায় বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চট্টগ্রামের ওপর বর্তানো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর এবং বিভ্রান্তিকর।
একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অবৈধ অর্থ লেনদেনকে প্রশ্রয় দেয় না। বিকেটিটিসি চট্টগ্রামের কোনো কর্মকর্তা, কর্মচারী কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যদি SVP Assessment-এর নামে অবৈধ অর্থ আদায় বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষ পূর্ণ সহযোগিতা করবে।
সম্প্রচারিত প্রতিবেদনে বিকেটিটিসি চট্টগ্রামের একজন কর্মকর্তার পরিবারের একজন সদস্যের SVP Assessment-সংক্রান্ত সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ইতোমধ্যে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং বিষয়টি পিবিআই কর্তৃক তদন্তাধীন রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ অবগত। তদন্তাধীন কোনো অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী হিসেবে উপস্থাপন না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম মনে করে, বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা যাচাই ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় দায়িত্ব। এ ধরনের কার্যক্রম সম্পর্কে ভুল, অসম্পূর্ণ বা যাচাই-বাছাইহীন তথ্য প্রচার হলে একদিকে বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে, অন্যদিকে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের শ্রমবাজার সম্পর্কেও নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।
তাই কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সকল অংশীজনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে- অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত ও যাচাই করা হোক এবং প্রকৃত দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনা হোক। একইসঙ্গে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও তথ্য যাচাই নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, চট্টগ্রাম তার দীর্ঘদিনের সুনাম, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা উন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর। বিদেশগামী কর্মী ও প্রশিক্ষণার্থীদের স্বার্থে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

















