রেলওয়ের কর্মকর্তার নাম-ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ

সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে অপপ্রচার, ফটোকার্ড ছড়িয়ে অর্থ দাবির অভিযোগ

1

সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করে হয়রানি এবং অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তাদের নাম, পদবি ও ছবি ব্যবহার করে ফটোকার্ড তৈরি করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। পরে এসব পোস্টের লিংক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও দপ্তরে পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি পাহাড়তলী রেলওয়ে এলাকার একটি সরকারি অফিসকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ড নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই ফটোকার্ডে যার নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রধান নন। সরকারি বিধি অনুযায়ী কোনো কাজের অনুমোদন বা বাস্তবায়নের একক ক্ষমতাও তার নেই। ফলে ফটোকার্ডের উপস্থাপনায় তাকে কোনো কার্যক্রমের একক নিয়ন্ত্রক হিসেবে দেখানো হলে তা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।

পাহাড়তলীর জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বাংলাদেশ রেলওয়ের সরঞ্জাম ও সরবরাহ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রেলওয়ের ওয়ার্কশপ ও কারিগরি কার্যক্রম সচল রাখতে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হয়। কোনো সরঞ্জামের ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত সংগ্রহের প্রয়োজন হলেও এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি বিধি, অনুমোদন ও আর্থিক নিয়মকানুন অনুসরণ করেই সম্পন্ন হওয়ার কথা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো ক্রয় বা সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে চাহিদাপত্র, অনুমোদন, ক্রয়প্রক্রিয়া, সরবরাহ ও গ্রহণসংক্রান্ত নথি যাচাই করা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তথ্য-প্রমাণসহ তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা উচিত।

সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি অভিযোগ মুহূর্তেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সত্যতা যাচাই না করে কোনো পোস্ট শেয়ার বা প্রচার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি কিংবা অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়ে থাকলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক, অনিয়ম থাকলে ব্যবস্থা হোক—তবে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার নয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি, দায়িত্ব বণ্টন ও সরকারি বিধি যাচাই করে তথ্য উপস্থাপন করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকৃত অভিযোগ যাতে চাপা না পড়ে এবং নির্দোষ কেউ যাতে অপপ্রচারের শিকার না হন, সে জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

Advertisement