চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মোঃ আবু সুফিয়ান বলেছেন, ধূমপান, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও হাঁটাচলা না করার কারণে প্রতিনিয়ত হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশ্বে এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ। বাংলাদেশেও হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ এখন খুবই সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি খাদ্যাভাস পরিবর্তনসহ নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, নিজেকে এ ব্যাপারে সচেতন হতে হবে এবং অন্যদেরকেও সচেতন করতে হবে।
আজ ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকালে বিশ্ব হার্ট দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগ আয়োজিত র্যালি পরবর্তী সংক্ষিপ্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘একটি হৃদস্পন্দনও উপেক্ষা নয়, আপাত সুস্থতার আড়ালেও হৃদরোগ লুকিয়ে থাকতে পারে’-বিশ্ব হার্ট দিবসের এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে হাসপাতালের গোলচত্ত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। র্যালিতে নেতৃত্ব দেন এমপি মোঃ আবু সুফিয়ান। র্যালি শেষে কেক কেটে দিবসটির উদ্বোধন করা হয়। একইসাথে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের বিনিামূল্যে হেলথ স্ক্রিনিং করা হয়।

চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশ্ব হার্ট দিবসের র্যালি পরবর্তী কর্মসূচীতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি ও জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোঃ রাশেদুল হাসান, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. কিশোয়ার নাসরিন, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ ইমতিয়াজ উদ্দীন, সহকারী অধ্যাপক ডা. মোঃ বোরহান উদ্দীন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোঃ আশিক আমানসহ চিকিৎসকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণগুলোর একটি হার্ট অ্যাটাক। অসংক্রামক ব্যাধির মধ্যে হদরোগ বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা বলেন, হৃৎপিন্ড থাকলে হৃদয়বান হওয়া যায়না। হার্টকে নিয়মিত চেকআপে রাখতে হবে। হার্ট ভালো রাখতে হলে প্রতিদিন হাঁটতে হবে এবং ৭/৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে। মানুষকে হার্ট অ্যাটাকের ঘাতক ব্যাধি থেকে বাঁচাতে হলে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। নিজেদেরকে ডাক্তার না ভেবে গুরুত্বপূর্ণ রোগী মনে করে হার্টের রোগীদেরকে আন্তরিকভাবে চিকিৎসা দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. মোঃ একরাম হোসেন বলেন, আমরা নিজেদের হার্ট নিয়ে কখনো চিন্তা করিনা। হার্ট অ্যাটাক মৃত্যুর প্রধান কারণ। হার্টের যত্ন না নিলে অকালেই চলে যেতে হবে। পারিবারিক হৃদরোগ ইতিহাস, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, অতিরিক্ত ধূমপান, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, অলস জীবনযাত্রা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, অতিরিক্ত উৎকণ্ঠা ও অতিরিক্ত মদ্যপান হৃদরোগের অন্যতম কারণ। শরীরের অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মতো হার্ট বা হৃদপিন্ডেরও যত্ন নিতে হবে।

















