বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন; তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর। মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের কারণে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ। ২০০৬ সাল থেকে তিনি নিজ মালিকানাধীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আগে তিনি বাংলাদেশের ব্রডশিট পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। পরে যুক্তরাজ্যের বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা ও লন্ডনসহ বিভিন্ন জায়গায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণও নেন তিনি।
সম্প্রচার, প্রিন্ট ও ডিজিটাল— তিন মাধ্যমেই সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা ছিল খালিদীর। ব্যবসা, রাজনীতি, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি।
২০১৭ সালে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পুরস্কারে বিশেষ সম্মাননা পান তৌফিক ইমরোজ খালিদী। ডিজিটাল বাংলাদেশে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষ্যে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
দেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশেও তৌফিক ইমরোজ খালিদীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ২০০৬ সালে তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ নতুন ব্যবস্থাপনায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নামে নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করে। ২০১৭ সালের এক প্রতিবেদনে বিডিনিউজকে ইন্টারনেটে বাংলাদেশের প্রথম সার্বক্ষণিক সংবাদ প্রকাশক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখপ্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, “দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন একজন পথিকৃৎ। তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারাল। সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’
রাষ্ট্রপতি তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিগত স্মৃতির কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, ‘‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যু আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
















