শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ড এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের পরামর্শ, সচেতনতার আহ্বান

26

নাগরিক সচেতনতা | চট্টলা নিউজ ডেস্কঃ শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। অসাবধানতা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গ্যাসের অনিরাপদ ব্যবহার এবং দাহ্য পদার্থের যথাযথ সংরক্ষণ না করার কারণে অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আগুন লাগার আগেই প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

শুষ্ক মৌসুমে বাড়িঘর, দোকানপাট, কলকারখানা ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের পাশাপাশি ভবনমালিক, ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে রান্না শেষে গ্যাসের চুলা ও সংযোগ বন্ধ রাখা, বৈদ্যুতিক তার ও যন্ত্রপাতির ত্রুটি দ্রুত মেরামত করা এবং বৈদ্যুতিক সংযোগে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলা এবং শিশুদের দিয়াশলাই ও লাইটার থেকে দূরে রাখার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

দাহ্য পদার্থ যেখানে সংরক্ষণ করা হয়, সেখানে খোলা আগুন, মশার কয়েল ও অন্যান্য আগুনের উৎস ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘরে প্রবেশের সময় গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা কিংবা আগুন জ্বালানো যাবে না। নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিতে হবে।

বাড়ি, অফিস, দোকান ও কলকারখানায় প্রয়োজন অনুযায়ী অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখা এবং সেগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি জরুরি বহির্গমন পথ খোলা রাখা, অগ্নিনিরাপত্তা মহড়ার আয়োজন এবং আগুন লাগলে কীভাবে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্য ও কর্মীদের আগে থেকেই জানিয়ে রাখা উচিত।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে এবং আশপাশের মানুষকে সতর্ক করতে হবে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করা উচিত নয়। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা যেতে পারে।

নাগরিক সচেতনতা ও আগাম প্রস্তুতির মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই শুষ্ক মৌসুমে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সতর্কতা, সচেতনতা ও প্রস্তুতিই পারে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে।

Advertisement