শিক্ষক অজিত-অনিমা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বাকলিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

1

চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপস্থ জ্ঞানতাপস শিক্ষক অজিত কুমার চৌধুরী ও মহিয়সী নারী অনিমা রানী বড়ুয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নগরীর বাকলিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০২৫ সালে সরকারী প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আজ ১৭ অক্টোবর শনিবার সকালে বিদ্যালয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও প্রগতি নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ মিজ মমতা চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সদস্য পটিয়া খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়ন শিক্ষিকা সর্বানী চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মুহাম্মদ আমির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বাকলিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) অরুণ কৃষ্ণ পাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জ্ঞানতাপস শিক্ষক অজিত কুমার চৌধুরী ও মহিয়সী নারী অনিমা বড়ুয়া ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব ও বাকলিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বানীব্রত চৌধুরী। কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজেমুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক ফরমানুল কবির, সাংবাদিক ও লেখক রনজিত কুমার শীল, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তা লেখক নুরুল মুহাম্মদ কাদের ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রনতোষ বড়ুয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সুব্রত চৌধুরী।

শুরুতে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দদেরকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। এর পর ফাউন্ডেশনের সদস্য শিক্ষক সর্বানী চৌধুরী-সংগীত, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইলা চেীধুরী-কবিতা আবৃত্তি ও অনুজা মুৎসুদ্দী একক নৃত্য পরিবেশন করেন।

শেষে বাকলিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী আরও দু’জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়।

জ্ঞানতাপস শিক্ষক অজিত কুমার চৌধুরী ও মহিয়সী নারী অনিমা বড়ুয়া ফাউন্ডেশনের সকল সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দরা বলেন, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মানুষ গড়ার কারিগর প্রয়াত অজিত কুমার চৌধুরী অত্যন্ত দক্ষ, মেধাবী ও নির্লোভ ব্যক্তি ছিলেন। আলোকিত সমাজ বিনির্মাণে তিনি মৃত্যুর পূর্বমুহুর্ত পর্যন্ত কাজ করে গেছেন। তাঁর ছাত্ররা আজ দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত। আর এই গুনী শিক্ষাবিদের সহধর্মিীনি মহিয়সী নারী প্রয়াত অনিমা বড়ুয়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মী হয়ে এলাকার মা-বোনের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করেছিলেন। তিনি শুধু পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ছিলেন না, একজন শিক্ষানুরাগীও বটে। আগামীতে উন্নত দেশ বিনির্মাণে তাঁেদর মত অন্যান্য গুনী ব্যক্তিদের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বুকে ধারণ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিনোদন চর্চা করতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বরধারী জিপিএ-৫ বা মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান অধিকারীই হবে না, খারাপ উদ্দেশ্য পরিহার করে নীতি-নৈতিকতার মাধ্যমে একেক জন প্রকৃত মানবিক গুনসম্পন্ন সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের হাত ধরেই রচিত হবে আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ।

অতিথিবৃন্দরা আরও বলেন, সন্তানের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করতে চাইলে প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের সন্তানের পাশে থাকতে হবে। মোবাইলের অপব্যবহার থেকে সন্তানদেরকে দূরে রাখতে হবে। সন্তান কার সাথে মিশছে, কার সাথে কোথায় যাচ্ছে, নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে কি না তা নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে। যে সকল সন্তান তাদের যাতে পিতা-মাতা-শিক্ষক ও সমাজের মানুষকে সম্মান করবে তারাই আগামীতে আলোকিত মানুষ হবে।

বক্তারা জ্ঞানতাপস শিক্ষক অজিত কুমার চৌধুরী ও মহিয়সী নারী অনিমা বড়ুয়া ফাউন্ডেশন কর্তৃক এ ধরণের মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আগামীতে এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য মতামত ব্যক্ত করেন।

Advertisement