মহালয়া দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে ভক্তের হৃদয়েঃ সুকান্ত ভট্টাচার্য

992

শুভ মহালয়া দেবী দুর্গার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে ভক্তদের হৃদয়ে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য। গতকাল বুধবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭.৩০টায় দক্ষিণ মধ্য হালিশহরস্থ শাপলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত মত প্রকাশ করেন তিনি।

Advertisement

পূর্ব শিকারপুর, হাটহাজারী শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ বাড়ী সেবাশ্রম এর উপাধ্যক্ষ স্বরূপ দাশ বাবাজী’র মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ও সংগঠনের সভাপতি উত্তম কুমার দত্তের সভাপতিত্বে এবং স্বরূপ দত্ত রাজুর সঞ্চালনায় উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ইন্দু নন্দন দত্ত।

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শংকর মঠ সংস্কৃত কলেজ এর প্রভাষক পন্ডিত অনির্বাণ ভট্টাচার্য (সুমন), বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটি- বাগীশিক কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. অঞ্জন কুমার দাশ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন শাপলা সাংস্কৃতিক সংঘের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন শাপলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রাজীব দত্ত, সাধারণ সম্পাদক লিংকন দে সান্টু, যুগ্ম-সভাপতি কৃষ্ণ দাশ, উজ্জ্বল দেবনাথ, সুমন কান্তি শর্মা, বিনয় দে লিমন প্রমূখ।

উদ্বোধকের বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ইন্দু নন্দন দত্ত বলেন পিতৃপক্ষ আর দেবীপক্ষের সন্ধিক্ষণ হচ্ছে মহালয়া। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণা প্রতিপদ শুরু হয়ে পরর্বতী অমাবস্যা পর্যন্ত সময়কে পিতৃপক্ষ বলে। পুরাণ মতে ব্রহ্মার নির্দেশে পিতৃপুরুষরা এই ১৫ দিন মনুষ্যলোকের কাছাকাছি চলে আসেন। তাই এই সময় তাঁদের উদ্দেশ্যে কিছু র্অপণ করা হলে তা সহজেই তাদের কাছে পৌছায়। যার চূড়ান্ত প্রকাশ বা মহালগ্ন হল এই মহালয়া। তিনি আয়োজকদের সৃজনশীল পরিবেশনায় উচ্ছাস প্রকাশ করেন এবং ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে শারদীয়া দুর্গাপূজা করার অনুরোধ জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেন শাঁখ-কাঁসার শব্দে, উলুধ্বনিতে, চন্ডীপাঠের মাধ্যমে মর্ত্যালোকে আমন্ত্রণ জানানো হয় দেবী দুর্গাকে। শ্রী শ্রী চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার ধরাধামে আগমনই শুভ মহালয়া হিসেবে পরিচিত। আর আয়োজকরাই ঠিক সেই কাজটিই করেছেন অত্যন্ত ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহালয়াকে আগমনের মাধ্যমে। মহালয়ার শেষে আসে মহাপঞ্চমী। পূজামন্ডপগুলোতে দেবীর আগমন ঘটে। পূজার দ্বিতীয় দিন হচ্ছে মহাষষ্ঠী। এ দিনে দেবী তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে মর্ত্যে আগমন করেন। মহাসপ্তমীর দিন থেকে শুরু হয় দেবীর আরাধনা। এরপর দশমীতে দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয় দুর্গোৎসবের। মহালয়ায় শুরু হয়ে বিজয়ায় শেষ হয় দুর্গাপূজা।

তিনি আরো বলেন নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিজ্ঞানে আরো মনযোগী হতে হবে। শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা, কম্পিউটার আর ফেসবুক চালালেই হবে না। সত্যিকারের মানুষ হতে হলে প্রচুর পরিমাণে বই পড়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। চন্ডিপাঠ, মহালয়া পূজা, শোভাযাত্রা, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সারা দিনব্যাপী মহালয়ার অনুষ্টানমালার সমাপ্তি হয়।

অতিথিবৃন্দকে আগমনী ব্যাচ, উত্তরীয়, ফুল এবং দুর্গার আবক্ষ মূর্তি দিয়ে বরণ করে নেন পূজা উদ্যাপন পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ। সঙ্গীত এবং নৃত্য পরিবেশনায় ছিলেন টেলিভিশন ও বেতার শিল্পী শুভ্রজিৎ চক্রবর্ত্তী, জয়শ্রী ধর, মিতালী রায়, সুমন তালুকদার, অপু চক্রবর্ত্তী, তিথি মিত্র, ইমু দে, সেঁজুতি দাশ, সুদীপ দত্ত জিমি, পূর্বাশা দত্ত, পূর্ণিমা চৌধুরী, অর্ণা দে, দেববর্ণা চক্রবর্ত্তী প্রমূখ। শুভ মহালয়ার মঞ্চ সজ্জ্বায় ছিলেন সুমন দত্ত, আলোকসজ্জ্বায় লাইট ভিশন এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় ছিলেন সুপল দাশ।

Advertisement