বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ প্রশ্নে জয়নাল আবেদীন হাজারী অবিচল ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।
আজ মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বাদ আছর ফেনী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহে পুস্পস্তবক অর্পন ও দোয়া মোনাজাতকালে উপরোক্ত মন্তব্য করেন সুজন।
এসময় তিনি বলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন হাজারী দলের নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ফেনী এবং এর আশেপাশের জেলাগুলো শত্রুমুক্ত করতে তিনি অসীম সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুকে সর্বাত্নক সহযোগিতা করতে থাকেন। ১৯৭৫ সালের কালোরাত্রিতে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারবর্গকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর খুনীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেন। যে কারণে পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। মামলা, হামলা, গুম, হত্যা, নির্যাতন উপেক্ষা করে দলের নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করতে থাকেন জয়নাল হাজারী। যে কারণে তাঁকে দীর্ঘ বছরের বছর বছর জেলের অন্ধকার কক্ষে দিনাতিপাত করতে হয়েছে।
স্বৈরাচারী সরকারগুলোর দুঃসহ নির্যাতনের বিরুদ্ধে গিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচার বন্ধে জয়নাল হাজারী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। এভাবেই তিনি ধীরে ধীরে ফেনী এবং আশেপাশের জেলাগুলোর রাজনীতিতে আওয়ামী লীগকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। সারাজীবন দলের আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন তিনি। অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ধন সম্পদের মালিকও হননি তিনি। তাঁর মৃত্যু এবং আজকের জানাজা প্রমাণ করে দলের জন্য কতোটা নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন জয়নাল হাজারী।
দলের আদর্শিক নেতা-কর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন প্রেরণার উৎস। তাঁর মৃত্যু আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। দলের নেতা-কর্মীদের হৃদয়ে জয়নাল হাজারী চিরনজাগরুক হয়ে থাকবেন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
সুজন, জয়নাল আবেদীন হাজারীর মরদেহে পুস্পস্তবক অর্পন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন।

















