ফটিকছড়িতে প্রবাসীকে কুপিয়ে খুন

184

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পূর্ব বিরোধের জের ধরে মাসুদুর রহমান (৩৬) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

Advertisement

শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দশটার দিকে উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের বালুটিলা বাজারে এঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুদ একই এলাকার সাবেক সেনা সদস্য মৃত সাইদুর রহমানের ছেলে। সম্প্রতি বাহরাইন থেকে দেশে ছুটিতে এসেছেন বলে মাসুের পারিবারিক সুত্র জানায়।

এদিকে এ ঘটনার পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা প্রতিপক্ষ গ্রুপ যুবলীগ নেতা আকতার হোসেনের বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে দিলে বেশ কয়েকটি ঘর পু্ড়ে যায়। এ ছাড়া একটি মোটর সাইকেলও পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধরা। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত মাসুদ ইউছুফ আলী মেম্বারের অনুসারী বলে স্থানীয়রা জানান। যুবলীগ নেতা আকতার হোসেনের অনুসারীরানএ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবী নিহতের পরিবারের।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভুজপুর থানার অফিসার ইনচার্জ হেলাল উদ্দিন ফারুকী বলেন, পুর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্য থেকে শামীম মিয়াজি ও দেলোয়ার হোসেন নামে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি জানান নিহতের ভাই মাহফুজুর রহমান বাবু বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, গত বছরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান ইউপি সদস্য ইউছুফ আলী এবং যুবলীগ নেতা আকতার হোসেন অংশ গ্রহন করেন। নির্বাচনে ইউছুফ আলী বিজয়ী হন। এর পর থেকে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। যা সময়ের সাথে চরম আকার ধারণ করে। গত কয়েকমাস আগে স্থানীয় এক ব্যক্তির স্ত্রীর সাথে ইউছুফ মেম্বারের পরকিয়ার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচিত হয়। এ ঘটনায় আকতারের ইন্ধন ছিল এমন অভিযোগে বকতারসহ বেশ কয়েকজনের নামে কোর্টে মামলা করেন ইউছুফ মেম্বার। এর পর আকতারও পাল্টা মামলা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ এবং স্থানীয়দের মধ্যস্ততায় উভয়ের মধ্যে সমঝোতা বৈঠক হয়।

কিন্তু এর পরও দুজনের সমর্থকদের চাপা উত্তেজনা ও বিরোধ চলছিল। সুত্র জানায় শামীম ও দেলোয়ার সম্প্রতি বাহরাইন থেকে দেশে ছুটিতে আসে। এর আগে ছুটিতে আসে নিহত মাসুদ।

শনিবার রাতে বাজারে মোটর সাইকেল রাখা নিয়ে দু পক্ষের মধ্য বাকবিতন্ডা হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে শামীম ও দেলোয়াররা মাসুদকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে। এসময় গুরুতর জখম অবস্থায় মাসুদকে রাস্তার উপর ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহতাবস্থায় মাসুদকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে এ বিষয়ে ইউছুফ মেম্বার বলেন আকতারের সাথে তাঁর যে বিরোধ ছিল তা মিটমাট হয়ে গেছে। তাছাড়া আমাদের বিরোধের সাথে নিরপরাধ ছেলেরা কেন খুনের শিকার হবে? তবে বিষয়টি নিয়ে যুবলীগ নেতা আকতারের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে এ ঘটনার পর এলাকায় চরম আতংকের পাশাপাশি চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

Advertisement