কোন অজুহাতে দক্ষিণ চট্টগ্রামে পরিবহন সুযোগ সীমিত করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর ১৪ দলের সমন্বয়ক এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দক্ষিণ চট্টগ্রামে পরিবহন সুযোগ সীমিত না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান।
এসময় সুজন বলেন, সম্প্রতি হঠাৎ করে বিভিন্ন দাবীতে আকস্মিক ধর্মঘট পালন করেন বিভিন্ন পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন। আকস্মিক ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ে শত শত যাত্রী। হঠাৎ করে ডাকা এ ধর্মঘটে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে কোনো বাস না ছাড়ার কারণে যাত্রীরা কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকায় আটকা পড়েন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়নে শিক্ষকতাসহ সরকারি-বেসরকারি নানা পেশায় কর্মরত নারী-পুরুষগণ প্রতিদিন এসব বাসে করে আসা যাওয়া করে। হঠাৎ করে ডাকা ধর্মঘটের ফলে সাধারন নাগরিকের মূল্যবান সময় অপচয়ের পাশাপাশি অফিসগামী মানুষজন চরম বেকায়দায় পড়েন। দাবী আদায়ের জন্য এভাবে সাধারন জনগনকে জিম্মি করা কোনভাবেই কাম্য নয়।
পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি না করে পরিবহন সুবিধা সংকুচিত করা কোনভাবেই উচিত হবে না। এর ফলে পরিবহন খাতে যে এক প্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। আমরা এও জানি যে কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী বাসগুলো প্রতিনিয়ত যাত্রী সাধারণকে জিম্মি করে রাখে। যাত্রীদের উপর অমানবিক আর্থিক নির্যাতন করে এসব পরিবহনের চালক এবং সহকারীরা। বিআরটি’র অনুমোদিত ভাড়া থেকেও অধিক হারে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করে তারা। তাদের অন্যায্য দাবীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তারা যাত্রীদের শারীরিক নির্যাতন করতেও দ্বিধা করেনা।
বিশেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেল আসলেই দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী ঘরমূখী মানুষের স্রোত তীব্র হয়ে উঠে। তখন তাদের নির্যাতনের মাত্রা আরো বৃদ্ধি পায়। ঐদিন ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে থাকলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামগামী বাসে কোন সিট পাওয়া যায় না। তাদের চাহিদামতো ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে এসব গাড়ির চালক এবং সহকারীরা গাড়ী না চালানোরও হুমকি দেয়। দিনের পর দিন শাহ আমানত সেতু এলাকায় পরিবহন নিয়ে এরকম অরাজকতা চললেও যাত্রীদের কল্যাণে কেউ এগিয়ে আসছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের। যেন এসব অরাজকতা দেখার কেউ নেই।
এমতাবস্থায় উক্ত সমস্যা নিরসণে প্রতি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট-দোহাজারীগামী একাধিক লোকাল ট্রেন চালু করার অনুরোধ জানান তিনি। এর ফলে যাত্রী সাধারনের ভোগান্তি অনেকটা লাঘব হবে এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের অযাচিত উৎপাত থেকেও রক্ষা পাবে সাধারণ যাত্রীগণ। যাত্রী অনুপাতে পর্যাপ্ত গাড়ী না হওয়া পর্যন্ত কোনভাবেই দক্ষিণ চট্টগ্রামে পরিবহন সুযোগ সীমিত না করারও অনুরোধ জানান তিনি।
এছাড়া উক্ত সমস্যা নিরসণে প্রতি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে নাজিরহাট-দোহাজারীগামী স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস চালু করার জন্য রেলওয়ের প্রতি অনুরোধ জানান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

















