সীতাকুণ্ড শঙ্কর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ ও পঞ্চম আচার্য পরমহংস শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজের ৬৮তম আবির্ভাব উৎসব মঠ প্রাঙ্গনে উদযাপন করা হয়েছে।
আজ ২৭ নভেম্বর সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মঙ্গলারতি, হরি ওঁ কীর্ত্তন, শ্রীশ্রী চন্ডীপাঠ, শ্রীশ্রী গুরুপূজা, বিশ্বশান্তি শ্রীশ্রী গীতাযজ্ঞ ও সনাতন ধর্মসম্মেলনের মধ্যদিয়ে আবির্ভাব উৎসব উদযাপন করা হয়।
শঙ্কর মঠ ও মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক তড়িৎ কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে ও মাষ্টার অজিত কুমার শীলের সঞ্চালনায় সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত সনাতন ধর্মসম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সীতাকুন্ড রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ভক্তিপ্রদানন্দ মহারাজ। আশীর্বাদক ছিলেন শঙ্কর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ পরমহংস শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজ। প্রধান বক্তা ছিলেন শ্রীমৎ মুক্তানন্দ গিরি মহারাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম অরবিন্দ সোসাইটির চেয়ারম্যান রতন ভট্টাচার্য্য। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শঙ্কর মঠ ও মিশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বাসুদেব দাশ। গুরুপূজা করেন শ্রীমৎ জগদীশ্বরানন্দ ব্রহ্মচারী।
শঙ্কর মঠ ও মিশনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সুলাল কান্তি চৌধুরী, সমীর কান্তি পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জিত কুমার মল্লিক, সাংবাদিক রনজিত কুমার শীল, লায়ন দিলীপ কুমার শীল, অনিমা মল্লিক, অজিত শীল, ইঞ্জিনিয়ার সুবল শীল, প্রদীপ মহাজন জহর, লিটন পাল প্রমূখ। মঠের সাধু-সন্তুু ও ভক্তবৃন্দরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।
আবির্ভাব উৎসবের সনাতন ধর্মসম্মেলনে বক্তারা বলেন, শঙ্কর মঠ ও মিশনের প্রবৃদ্ধি ও মঠের অধীন শ্রীশ্রী বিশ্বনাথ মন্দির প্রতিষ্ঠায় শ্রীমৎ স্বামী তপনানন্দ গিরি মহারাজের অবদান অনস্বীকার্য। যারা তীর্থ করার উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষের গয়া-কাশি-মথুরা-বৃন্দাবনে যেতে পারবেনা তারা সীতাকুন্ডে শ্রীশ্রী বিশ্বনাথ মন্দির দর্শনের মাধ্যমে পূণ্যলাভ করতে পারবে। মঠ-মন্দির শুধু বেড়ানোর জায়গা নয়, ঠাকুরের সান্নিধ্য লাভের স্থানও বটে। জীবনে সৎভাবে যা কিছু উপার্জন করি তার সামান্যটুকু যদি তীর্থস্থানে দান করা হয় তাহলে মানব জীবন স্বার্থক ও সুন্দর হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নিষ্কাম কর্ম ও অন্ধকারাচ্ছন্ন পথ থেকে উত্তরণের জন্য মনুষ্যত্বের সাধনা করাই হলো গীতা শিক্ষা। বিশ্বজনীন ধর্মগ্রন্থ শ্রীশ্রীমদ্ভগবত গীতার কর্ম-জ্ঞান ও ভক্তি মানুষকে বিভিন্ন অপকর্ম থেকে বিরত রাখে। এখানে মঠ-মন্দির শুধু ধর্ম চর্চার সাধনা করে না। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধাবোধ সৃষ্টি ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। ধর্মবোধ মানুষকে ন্যায়ের শিক্ষা দিয়ে সভ্য করেছে। তাই গীতার আদর্শ ও উদ্দেশ্য বুকে ধারণ করতে পারলে সুন্দর সমাজ বিনির্মাণ হবে।

















