সিইউএফলে টেন্ডার নিয়ে বড় অনিয়ম, তদন্তে নামছে দুদক

1

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডে (সিইউএফএল) ব্যাগিং কন্ট্রাক্টর নিয়োগের টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে ওঠা অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও প্রতিযোগী ঠিকাদারদের বাধা দেওয়ার ঘটনায় তদন্তে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

Advertisement

সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মঙ্গলবার (২৬ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সোমবার (২৫ মে) ‘সিইউএফএলের টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ঠিকাদার-এমডির যোগসাজশে দেড় কোটি টাকার কাজ ২ কোটি ৩০ লাখে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

জানা গেছে, সিইউএফএলে প্রায় দেড় কোটি টাকার ব্যাগিং কাজ কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছাড়াই দুই কোটি ৩০ লাখ টাকায় চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির শঙ্কা তৈরি হয়। রোববার টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ঘিরে সিইউএফএলের প্রশাসনিক ভবনে ঠিকাদারদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার শিডিউল সংগ্রহ করলেও আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিতে সক্ষম হয়।

ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছে। তাদের দাবি, কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান ও কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায় পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে। শাহ মোহছেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকার দরপত্র জমা দেয়। তবে অভিযোগকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দাবি করেছে, সব ঠিকাদার অংশ নিতে পারলে আরও কম দরে কাজটি সম্পন্ন করা যেত।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অধিকাংশ সরকারি টেন্ডার বর্তমানে ই-জিপি পদ্ধতিতে সম্পন্ন হলেও সিইউএফএলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার গ্রহণ করা হয়েছে, যা অনিয়মের সুযোগ তৈরি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান এর আগে বলেছেন, টেন্ডার বক্স সবার জন্য উন্মুক্ত ছিল। কে ফেলেছে বা কে ফেলেনি, সেটি তার দেখার বিষয় নয়।

Advertisement