চাকরিতে বহাল থেকেও সরকারি চাকরির তথ্য গোপন করে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ডে (পাহাড়তলী-আকবরশাহ আংশিক) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সীতাকুণ্ড উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
সালাউদ্দিন সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের নড়ালিয়া এলাকার নুর সোলাইমানের পুত্র এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী হিসাবে কর্মরত আছেন। মনোনয়নপত্রে তিনি পেশা দেখিয়েছেন ব্যবসা।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, সরকারিবিধি ভঙ্গ করে মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এ ব্যাপারে তথ্যউপাত্ত পাওয়ার পর তাঁকে শোকজ করেছি। তবে তিনি কোনো জবাব দেননি। তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককেও তাঁর বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সীতাকুণ্ডের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরউদ্দিন বলেন, সালাউদ্দিন আমাদের এখানে স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে কর্মরত। নিয়ম অনুসারে প্রার্থী হওয়া সম্ভব নয়, তা আগেই তাঁকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে । কিন্তু কোনো তোয়াক্কা করেননি তিনি। চাকুরি থেকে এখনও পদত্যাগ করেননি বলে জানান তিনি। এছাড়াও তিনি চাকরির সুবাদে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন বলেন, আমি চাকরি থেকে অনেক আগেই পদত্যাগ করেছি। সেটা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি জানেন। আমি সীতাকুণ্ড থেকে সংসদ সদস্য হয়ে (এমপি) জনগণের সেবা করি তা অনেকে চায় না।
সাহাব উদ্দিন স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সালাউদ্দিনকে কেউ ছিনে না। হয়তো হালের আলোচিত হিরো আলম মতো পরিচিতির জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন।
বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজি বলেন, সালা উদ্দিন মানসিক রোগী। তার মাথায় যখন যেটা কাজ করে সেটা করে থাকেন।
যাচাই বাছাইয়ে সালাউদ্দিনের মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও উচ্চ আদালতে গিয়ে প্রার্থিতা ফিরে পান তিনি। পরে ‘রকেট’ প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে প্রচারে নামেন সালাউদ্দিন।
















