ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। তিনি ঘটনাটিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
সোমবার (২৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে হাফিজুর রহমানের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। এছাড়া উপাচার্য বিষয়টি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে হাফিজুর রহমানের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এদিন সকালে এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের ভাইয়ের মৃত্যু ভীষণভাবে আমাদের আহত করেছে। কয়েকটি ভিডিওচিত্র দেখেছি, সেখানেও যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে যায়। নিজ নিজ জায়গা থেকে যারা দায়িত্ব পালন করেনি, যাদের কারণে আমাদের ভাই-বন্ধু হাফিজের প্রাণ চলে গেছে তাদের সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। যদি আত্মহত্যাও হয়, তারও সন্তোষজনক একটি তথ্য আমরা চাই। সর্বোপরি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিচার দাবি করছি।
হাফিজুর রহমানের মৃত্যুর চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগ রাজপথে থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন। শিক্ষার্থীদের ডাকা মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে তিনি একথা বলেন।
সাদ্দাম বলেন, হাফিজুর রহমানের ঘটনাটি আমাদের সবাইকে আপ্লুত করেছে। তার পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই। তাদের পাশে আমরা আছি। হাফিজুর রহমানের ঘটনার যেন ন্যায়বিচার হয়, যেন সুষ্ঠু তদন্ত হয়, পূর্বাপর কী ঘটেছে না ঘটেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে সেটি যেন উন্মোচন করা হয়, এসব বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রলীগ রাজপথে থাকবে।
প্রসঙ্গত, রোববার (২৩ মে) নিখোঁজের ৯ দিন পরে হাসপাতালের মর্গে মেলে ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমানের লাশ। শিক্ষার্থী হাফিজুরের লাশ শনাক্ত করেছে তার পরিবার ও স্বজনরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান। তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন হাফিজুর।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের পরের দিন হাফিজুরকে হাসপাতালের ২ নম্বর গেটের কাছে দেখা যায়। সে সময় বৃষ্টি ছিল। সেখানে ডাব বিক্রেতার দা নিয়ে তিনি ছোটাছুটি করেন। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দা দিয়ে নিজের গলায় টান দেয় হাফিজুর। পরে সেখান থেকে লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এর আগে গত ১৫ মে ঈদুল ফিতরের পরদিন দুপরে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন হাফিজুর। বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হল এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে রাত ৮-৯ টার দিকে তার নিজ বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেন।
এ সময় প্রচুর বৃষ্টি হওয়াতে তার বন্ধুরা তাকে বিদায় দিতে চাননি। কিন্তু হঠাৎ করে তিনি বন্ধুদের আড্ডার মাঝ থেকে উঠে দৌড় দেন। পরে অনেক খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তার বন্ধুরা।
















