চবি’র ৫ম সমাবর্তন বুধবার, ক্যম্পাসে উৎসবের আমেজ

431

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন আগামী ১৪ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।এ লক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষের তোড়জোড় প্রস্তুতি চলছে। সমাবর্তনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সমাবর্তন নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।পুরো ক্যম্পাস নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এ লক্ষে গতকাল চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের একটি টিম ক্যম্পাস পরিদর্শক করে প্রশাসনের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়েছে। তারা নিরাপত্তা বিষয় খুঁটিনাটি দিক পর্যলোচনা করেছেন।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে পাওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে, এবারের সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্মাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা সাড়ে ২২ হাজার শিক্ষার্থীর পাশাপাশি এমবিবিএস সম্পন্ন করা এক হাজার ৪২৭, ডেন্টাল ও নার্সিং কলেজের ৪২০, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ৩৩৪ শিক্ষার্থী সনদ নেবেন। এ ছাড়া পিএইচডি সম্পন্ন করা ৩৯ জন এবং এমফিল করা ৪২ জন শিক্ষার্থী তাদের সনদ নেবেন।

সমাবর্তনের প্রধান বক্তা অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার (ডি.লিট) ডিগ্রি প্রদান করা হবে।

সমাবর্তনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াহ্ইয়া আখতার। উপস্থিত থাকবেন সরকারের আরো চার উপদেষ্টা। এ ছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক উপাচার্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। সমাবর্তন ঘিরে কতৃপক্ষের তোড়জোড় প্রস্তুতি চলছে।ক্যম্পাস জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

চবির ৫ম সমাবর্তন: সমালোচনার মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রশাসনের!
শুরুতে মূল সনদ উত্তোলনকারীদের সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ। চাপের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) পঞ্চম সমাবর্তন কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. এনায়েত উল্লাহ পাটওয়ারী।

গত ১৩ মার্চ সমাবর্তন-সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যেসব শিক্ষার্থী মূল সনদ উত্তোলন করে ফেলেছেন, তারা সমাবর্তনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহল, ফেসবুক গ্রুপসহ নানা জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তবে সমালোচনার মুখে শেষমেশ এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে চবি কর্তৃপক্ষ। যারা মূল সনদ উত্তোলন করে ফেলেছেন তাদেরও সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫ম সমাবর্তনের লোগো উন্মোচন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তনের লোগো উন্মোচন করা হয়েছে। শনিবার (১২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লোগোটি উন্মোচন করা হয়।

উন্মোচিত লোগোতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, গৌরবময় ইতিহাস ও শিক্ষার আলোকে আগামীর পথচলার প্রতীকী চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সমাবর্তনের এ লোগো আগামী দিনের সব আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম, স্মারক ও প্রচারণায় ব্যবহৃত হবে। তবে লোগো নিয়েও নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়।শেষমেশ বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে লোগো পরিবর্তন করেনি।

চবির ৫ম সমাবর্তন বাস্তবায়নে ১৯টি উপ-কমিটি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বহুল প্রত্যাশিত ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাস্তবায়নের জন্য ১৯টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।
১.রাস্তাসমূহ মেরামত/সংস্কার ও উন্নয়ন কমিটি। ২. পরিচ্ছদ কমিটি। ৩. স্যুভেনির কমিটি। ৪. বাজেট কমিটি। ৫. সনদ কমিটি। ৬. প্রচার ও প্রকাশনা কমিটি। ৭. প্যান্ডেল, সাজ-সজ্জা ও আসন ব্যবস্থাপনা কমিটি। ৮. পরিবহন কমিটি। ৯. আপ্যায়ন কমিটি। ১০. র‍্যালি ও অভ্যর্থনা কমিটি। ১১. সমাবর্তন অনুষ্ঠান কমিটি। ১২. উপস্থাপনা কমিটি। ১৩. শৃঙ্খলা কমিটি। ১৪. ক্রেস্ট ও সম্মাননা স্মারক কমিটি। ১৫. স্পন্সর কমিটি। ১৬. সফটওয়্যার ক্রয় কমিটি। ১৭. কোর কমিটি। ১৮. ডি.লিট কমিটি। ১৯. সমন্বয়/সহায়ক কমিটি।

সনদপত্রে স্বাক্ষর করছেন চবি উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনের ১৮ হাজার সনদে স্বাক্ষর করেছেন চবি উপাচার্য ও পরিক্ষা নিয়ন্ত্রক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তনের ১৮ হাজার সনদে নিজ হাতেই স্বাক্ষর করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার।

সমাবর্তনের সনদে স্বাক্ষর করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। রোববার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তার ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সনদ স্বাক্ষরের ছবি পোস্ট করেন। ফেসবুক পোস্টে ভিসি লেখেন, ‘স্মরণকালের সর্ববৃহৎ সমাবর্তন। সমবর্তী ২৩ হাজার। মাত্র ১৮ হাজার সনদে স্বাক্ষর করতে হবে। সিল বানিয়ে দেওয়া যেতো। সেটা করিনি। সমাবর্তীরা এখানে ৫-৬ বছর পড়েছেন। তারা আমাদের একাডেমিক সন্তান। আমরা চাই, কষ্ট হলেও তাদের সনদে আমাদের হাতের ছোঁয়া থাক। সেজন্য স্বল্প সময়ে স্বাক্ষর করার জন্য এ পদ্ধতিতে কাজ করছি। আল্লাহ সহায় হবেন।’ এ পোস্টের পর শিক্ষার্থী মহলে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।

সমাবর্তনে শিক্ষার্থীরা যে উপহার পাবেন:
সমাবর্তনে অংশ নেওয়া প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি মোবাইল ওয়ালেট, একটি কোর্টপিন, একটি কলম ও একটি পাটের ব্যাগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক কমিটি। শিক্ষার্থীরা উপহার, খাবার, গাউন ও টুপি নিজ নিজ বিভাগ থেকে সংগ্রহ করতে পারবে। গাউন ও টুপি দুইদিন আগ থেকে সরবরাহ করা হবে।

৩৬ বছর পর চবি ক্যাম্পাসে যাবেন ড. ইউনূস
৩৬ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামী ১৪ মে পঞ্চম সমাবর্তন উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন। ১৯৭২ সালে অধ্যাপক ড.ইউনুস চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এ পদে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ড. ইউনূস।এছাড়া তার নিজ বিভাগে ও যাবেন প্রধান উপদেষ্টা।

আংশগ্রহনকারীদের ১৩ দফা নির্দেশনা জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
১। কনভোকি কার্ড ছাড়া সমাবর্তনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবেনা এবং ইহা হস্তান্তরযোগ্য নহে। কনভোকি কার্ড প্রদর্শন করে গাউন নিতে হবে।
২। কনভোকিগণ ১২/০৫/২০২৫ ও ১৩/০৫/২০২৫ তারিখ অফিস চলাকালীন সময়ে (সকাল ৯.০০ থেকে দুপুর ৩.০০ টা পর্যন্ত) গাউন সংগ্রহ করতে পারবেন। ১৪/০৫/২০২৫ তারিখ সকাল ৭.০০ টা থেকে অবশিষ্ট গাউন বিতরণ করা হবে।
৩। ১৪/০৫/২০২৫ তারিখ দুপুরের খাবার সকাল ১০.৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২.০০ টার মধ্যে কুপন জমাপূর্বক সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথ থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
8। ৫ম সমাবর্তনে অংশগ্রহনকারী সকলকে দুপুর ১.০০ টার মধ্যে অবশ্যই অনুষ্ঠানের মূল প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে হবে এবং অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে প্যান্ডেল ত্যাগ করা যাবেনা।
৫। কনভোকিদের ব্যক্তিগত কোন গাড়ী ১নং মূল গেইট (হাটহাজারী রোড) থেকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেনা। ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়ার জন্য শাটল ট্রেন ও বাসের ব্যবস্থা থাকবে। কনভোকিদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন পয়েন্ট যথা ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স, নিউ মার্কেট, জামেয়াতুল ফালাহ, পলিটেকনিক মোড় (ফ্লাইওভার থেকে নেমে) থেকে বাসের ব্যবস্থা থাকবে। সকাল ৬.০০ টা থেকে ৯.০০ টা পর্যন্ত বাসগুলো শহর থেকে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করবে এবং ক্যাম্পাস থেকে ফিরতি বাসগুলো বিকাল ৪.৩০ শুরু হয়ে রাত ১০.৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। শাটল ট্রেনের সময়সূচি বটতলী স্টেশন থেকে ০৭:১৫, ০৭:৪০, ষোলশহন স্টেশন থেকে ০৯:৩০, ১০:১৫ ও ১১:৩০ এবং ফিরতি ট্রেন ক্যাম্পাস থেকে ১৬:৪০, ১৮:২০ ও ২১:৪৫। সমাবর্তন দিনের বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের সময়সূচি ও পরিবহন বিষয়ক বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা
৬। যে সব কনভোকি অঙ্গীকারনামা আপলোড করে রেজিস্ট্রেশন করেছেন অথবা যাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড নাই, তারা অবশ্যই রেজিস্ট্রেশন কার্ড অথবা ফিস বাবদ ৩০০/- (তিনশত) টাকার পে-অর্ডার নিয়ে আসবেন, গাউন নেয়ার সময় তা অবশ্যই জমা দিতে হবে।
৭। যে সব কনভোকি ইতোমধ্যে সাময়িক সনদ/মূল সনদ নিয়েছেন, তারা অবশ্যই সাময়িক সনদ/মূল সনদের মূল (Original) কপি একটি খামে করে (খামের উপরে নাম, আইডি, বিভাগ/কলেজের নাম লিখতে হবে) নিয়ে আসবেন, গাউন নেয়ার সময় তা অবশ্যই জমা দিতে হবে। মূল সনদ/সাময়িক সনদের মূল (Original) কপি জমা দেওয়া ছাড়া গাউন সংগ্রহ করা যাবেনা।
৮। কনভোকিগণ তাদের গাউন এবং মূল সনদ/সাময়িক সনদ ও অন্যান্য ডুকমেন্ট জমা-উত্তোলন এবং গিফট আইটেম ও খাবারের কুপন তাদের বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথ থেকে সংগ্রহ করবেন।
৯। অধিভুক্ত কলেজসমুহের জন্য নির্দিষ্ট বুথ থাকবে। কনভোকিগণ সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে যোগাযোগ করবেন।
ক) চিকিৎসা অনুষদের অধীন মেডিক্যাল কলেজসমূহের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, বিজ্ঞান অনুষদ, চবি।
খ) ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসমুহের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ, চবি।
গ) চারুকলা ইনস্টিটিউটের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ, চবি।
ঘ) সিইউসিবিএ এর বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, বাণিজ্য অনুষদ, চবি।
ঙ) গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বুথের ব্যবস্থাপনায় থাকবেন ডিন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ, চবি।
১০। সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষে বিকাল ৪.৩০ টা থেকে রাত ১০.৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগ/ইনস্টিটিউট/নির্দিষ্ট বুথে গাউন ফেরত দিয়ে মূল সনদ ও উপহারসামগ্রী সংগ্রহ করবেন। যথাসময়ে অক্ষত অবস্থায় গাউন ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে সনদ সংগ্রহের সময় নগদ ৩০০০/- (তিন হাজার) টাকা জরিমানা পরিশোধ করতে হবে।
১১। কনভোকিদের প্রদত্ত টুপি গিফট হিসেবে বিবেচিত হবে।
১২। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ব্যাগ, ছাতা, ক্যামেরা, টেপরেকর্ডার বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫ম সমাবর্তনের জন্য গঠিত প্রচার প্রকাশনা উপ কমিটি গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিকাল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) এর কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাবর্তনের বিস্তারিত পরিকল্পনা সাংবাদিকদের জানান সমাবর্তনের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫ম সমাবর্তন কমিটির সদস্য-সচিব ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন। উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ তালুকদার, তথ্য ও ফটোগ্রাফি শাখার প্রশাসক ড. শহীদুল হক ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিউর রহমান চৌধুরী।সংবাদ সম্মেলনে সমাবর্তন উদযাপনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এসময় উপহার সামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক সাংবাদিক জানতে চাইলে ডক্টর শহীদুল হক জানান বাজেট স্বল্পতার কারণে চাইলে ও আমরা অনেক কিছু করতে পারিনি। এছাড়া আগামী ১২ মে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে দুপুর ১২টায় আরো একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে।

সমাবর্তনে অংশ গ্রহণকারীদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা মানতে হবে
দুপুর ১টার পরে কোনো সমাবর্তীকে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে দিবে না এসএসএফ। এমনকি লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ১টা বেজে গেলে বাকিরা প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

দুপুর ২টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। শেষ হবে বিকেল ৪টায়। এরমধ্যে অনুষ্ঠানস্থল থেকে কেউ বের হতে বা প্রবেশ করতে পারবে না। জরুরি প্রয়োজনে মেডিক্যাল টিম, আইসিইউ এবং ওয়াশরুমের ব্যবস্থা থাকবে। তবে বৃদ্ধ, নবজাতক ও শিশুদের না আনার অনুরোধ করেছে চবি কর্তৃপক্ষ।
মোবাইল ছাড়া আর কিছু সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল প্রবেশ করা যাবে না। এমনকি নবজাতক শিশুর জিনিসপত্রও না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবুজ সংকেত না পেলে যেকোনো শিক্ষার্থীর সমাবর্তনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ হতে পারে। ওইদিন সকাল ৬টা থেকে শহরের নির্দিষ্ট পয়েন্ট থেকে ১০০টি বাস সমাবর্তীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে আসবে। সমাবর্তন শেষে এগুলো আবার শহরে ফিরে যাবে। এছাড়া ক্যাম্পাসের এক নম্বর গেট এলাকা থেকে শাটল বাস সার্ভিস রাখা হবে। এর বাইরে কোনো গাড়ি সেদিন ওই রুটে চলাচল করতে পারবে না। শাটলবাসে অভিভাবকরাও চড়তে পারবেন।

ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসলে ড্রাইভার নিয়ে আসার অনুরোধ করেছে কর্তৃপক্ষ। কারণ ১ নম্বর গেটের ভেতরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য শহীদ মিনার, জারুলতলা, সায়েন্স ফ্যাকাল্টিসহ ৫টি পয়েন্টে এলইডি স্ক্রিনে অনুষ্ঠান দেখানো হবে। বিটিভিতে লাইভ সম্প্রচার হবে পুরো সমাবর্তন। ক্যাম্পাসের খাবার হোটেল এবং ক্যান্টিনগুলোতে পর্যাপ্ত খাবার রান্নার নির্দেশনা দিয়েছে চবি কর্তৃপক্ষ। তবে ড. ইউনূস যেই রুটে যাতায়াত করবে সেই রুটের হোটেলগুলো দুপুর ১২টার পর বন্ধ করা হতে পারে। এছাড়া ১৩ মে বিকেল ৩টা থেকে পরদিন অনুষ্ঠান শুরু হওয়া পর্যন্ত সমাবর্তন স্থলে সম্পূর্ণরুপে প্রবেশ নিষেধ।
সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীরা অনুষ্ঠান শেষ গাউন জমা দিয়ে নিজ নিজ বিভাগ থেকে সনদ ও গিফট গ্রহণ করতে হবে।

তবে সমাবর্তনে ২২ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারী ও ১৭ জন এমফিল সম্পন্নকারীকে সনদ প্রদান করা হবে। এছাড়া সমাবর্তন উপলক্ষে চবির ঐতিহ্যবাহী শাটল ট্রেন রঙিন সাজে সাজানো হতে পারে।

সমাবর্তন খরচ!
লম্বা বিরতি দিয়ে দীর্ঘ নয় বছর প্রতীক্ষার পর আগামী বুধবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫ম সমাবর্তন। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাক্কলিত বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ আয় হয়েছে মাত্র ৬ কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫টি পয়েন্টে থাকবে এলইডি পর্দা
কনভোকিদের বাহিরে সাধারণ শিক্ষার্থী, ক্যম্পাসে অবস্থান রত বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টের সমাবর্তন উপভোগের সুবিধার্থে শহীদ মিনার, জারুল তলা, সায়েন্স ফ্যাকাল্টিসহ ৫টি পয়েন্টে এলইডি পর্দায় অনুষ্ঠান দেখানো হবে। বিটিভিও সরাসরি প্রচার করবে সমাবর্তন অনুষ্ঠান।

Advertisement