নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট দখল ও বরাদ্দ নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও ‘গোপন’ সিট কালচারের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। চাকসু (CUCSU) এবং হল সংসদ প্রতিনিধিদের টানা কয়েকদিনের নিবিড় ‘হল চেকিং’ অভিযানের ফলে এই সাফল্য এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আবাসিক হলগুলোতে মাত্র ২৬৯টি সিট খালি থাকার তথ্য জানানো হয়েছিল। তবে একটি রাজনৈতিক দলের পরোক্ষ বাধা ও প্রতিকূলতা জয় করে ছাত্র প্রতিনিধিরা হল প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে পরিদর্শন শুরু করলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল।
দীর্ঘ তদারকির পর দেখা গেছে, বর্তমানে খালি সিটের সংখ্যা ৫৭২টি। অর্থাৎ, আগের হিসাবের চেয়ে আরও ৩০৩টি অতিরিক্ত সিট উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এই বর্ধিত সিটগুলোর মধ্যে ফরহাদ হলের এক্সটেনশন হিসেবে আবাসিক শিক্ষকদের জন্য নির্মিত ভবনেও ৮৮টি সিট পাওয়া গেছে, যা এখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।
হল পরিদর্শনকালে ছাত্র প্রতিনিধিরা দেখতে পান, ফরহাদ হল ও অতিশ দীপংকর হলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সিটে নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং বিশেষ বিবেচনায় অনেক শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। একে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণের শামিল বলে উল্লেখ করেছেন ছাত্র প্রতিনিধিরা।
তারা জানান, প্রশাসনের হাতে সিট গোপন বা সংরক্ষণ করে রাখার কোনো সুযোগ নেই।
এই প্রেক্ষাপটে ছাত্র প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে:
১. প্রশাসনের সিট গোপন বা সংরক্ষণ করার সকল প্রথা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
২. সকল আবাসিক সিট স্বচ্ছ, ন্যায্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব পদ্ধতিতে সবার জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
৩. প্রতিটি সিটের বিপরীতে সকল শিক্ষার্থীর আবেদন করার সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
চাকসু ও হল সংসদ প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক বরাদ্দ আর মেনে নেওয়া হবে না। ইনশাআল্লাহ, আমরা প্রতিটি সিটে প্রকৃত মেধাবী ও অভাবী শিক্ষার্থীদের আসন নিশ্চিত করবো।”
উল্লেখ্য, প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে খুব শীঘ্রই এই ৫৭২টি সিটে শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন।

















