নগরে চলছে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ

33

ঈদের নামাজ আদায় শেষে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নেমেছেন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকিতে। এর আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন চসিকের ৩২শ জন সেবক।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল থেকে নগরজুড়ে শুরু হওয়া পশু কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু হয়। ৪১টি ওয়ার্ডে প্রায় ৪শ ভ্যান গাড়ি ও ৪১টি ডাম্প ট্রাকে বর্জ্য সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সেবকরা।

চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা জানান, ডাম্প ট্রাক, পে লোডার, ভ্যানসহ ৩৭৯টি গাড়িতে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। বর্জ্য অপসারণের জন্য নগরীর ৪১ ওয়ার্ডকে উত্তর ও দক্ষিণ জোনে ভাগ করা হয়েছে।

উত্তর-দক্ষিণের ২২টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হবে আরেফিন নগরের আবর্জনাগারে। পতেঙ্গা-বন্দর এলাকার ১৯টি ওয়ার্ডের বর্জ্য ফেলা হবে হালিশহরে আবর্জনাগারে। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব বর্জ্য পরিষ্কার করা যাবে।

নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক ও অলি-গলি থেকে বর্জ্য এনে গাড়িতে তোলা হচ্ছে। অনেক স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে পানি দিয়ে রক্ত পরিষ্কার ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জোন কর্মকর্তা, সুপারভাইজার ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের (সেবক) সমন্বয়ে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে বেলা ২টা থেকে পুরোদমে পশুর বর্জ্য অপসারণ শুরু হয়েছে। ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো নগরীর বর্জ্য পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। কাজীর দেউড়ি বিমান অফিসের সামনের সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) এলাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যত্রতত্র বর্জ্য পড়ে থাকলে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ জন্য পর্যাপ্ত ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করা হয়েছে। নগরবাসী যাতে প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত স্থানে কোরবানির পশু জবাই করেন এবং জবাই শেষে চসিক এর সরবরাহ করা পলিথিন ব্যাগে বর্জ্য ভরে নির্দিষ্ট পয়েন্টে রেখে যান, সে বিষয়ে প্রচারণা চালানো হয়েছে। বেলা ২টা থেকে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক গাড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যে ৩টি ওয়ার্ড সবচেয়ে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে, তাদের আকর্ষণীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো চামড়া ব্যবস্থাপনা। আমরা চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। যারা চামড়া সংগ্রহ ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে চামড়াগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তালিকা অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি গবাদি পশু কোরবানির উপযোগি। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি, ছাগল ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, মহিষ ৪৭ হাজার ৮৩৪টি, ভেড়া ৪১ হাজার ৪২৩টি। চলতি বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি।

Advertisement