লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের বাংলাবাজার মিয়াজী পাড়া এলাকায় মিনু আরা বেগম (২৫) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ আগষ্ট) রাত ৮টার দিকে গৃহবধূর নিজ বসতঘর থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেন স্বজনেরা। ঘটনার পরপরই নিহতের স্বামী আব্দুল জব্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশ রেখে পালিয়ে যান। সে ওই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
নিহত গৃহবধূ মিনু বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামার সরই হাসনাভিটা নাইচ্যার ঝিরি পাড়া ১নং ওয়ার্ডের আবুল হাসেমের মেয়ে।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে লোহাগাড়া থানা পুলিশের এসআই পার্থ সারথী হাওলাদার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বৃহষ্পতিবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে লাশ উদ্ধা করে থানায় নিয়ে আসেন।
জানা গেছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। ঘটনার দিন বাড়ির সবার অগোচরে রুমের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মিনু। পরে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। সেখানেই কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা কেউ কেউ এটি আত্মহত্যা, আবার কেউ কেউ বলছেন খুন। তবে ঘটনার পর পরই হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ রেখে স্বামীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে রহস্যজনক মনে করছেন স্থানীয়রা।
নিহত মিনুর মা নুরুন্নিছা বেগম জানান, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়। আমি এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক জড়িতের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: শাকিলা আক্তার জানান, মিনু নামের এক মহিলার লাশ তার স্বামী আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসেন। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল শেষ করে লাশটি থানায় নিয়ে যায়।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় কলাউজান ইউপির মহিলা সদস্য বকুল আক্তার জানান, নিহত গৃহবধূ মিনু পরকীয়া প্রেমে জড়িত ছিল। এসব বিষয় নিয়ে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্য হওয়ায় গত ২/৩ মাস আগে বাপের বাড়ি চলে যায় গৃহবধূ মিনু। পরে এ বিষয়ে স্থানীয় ভাবে বিচার-শালিসের মাধ্যমে মিমাংসা হওয়ায় গত দেড় মাস আগে স্বামীর বাড়িতে চলে আসেন গৃহবধু মিনু। ঘটনার দিন বাড়ির ছাদের বীমের সঙ্গে রশি লাগিয়ে গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মিনু। আহতাবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মারা যান মিনু।
এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া রহমান জিকু বলেন, গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে এটা কি হত্যা, নাকি আত্মহত্যা তা সঠিক তথ্য জানা যাবে। তবে নিহত গৃহবধূর স্বামীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ মাঠে নেমেছে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।
















