জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি পুলিশের দায় খুঁজে পেয়েছে। তদন্ত শেষে প্রস্তুত করা প্রতিবেদন রোববার চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
সিএমপি সূত্র জানিয়েছে, তদন্তে ঘটনায় জড়িত ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তাদের বাইরে আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
সিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটি ঘটনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে, যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত ১২ জুন রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় অটোরিকশা থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে নামিয়ে খুলশী থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ ওঠে।
সেদিন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের ম্যাচ খেলে বিমানে চট্টগ্রামে ফিরেছিলেন নাঈম। বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় করে চান্দগাঁওয়ে নিজের বাসায় ফেরার পথে এ ঘটনার শিকার হন তিনি।
পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং পরিবারের সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাকে থানা থেকে মুক্ত করা হয়।
ঘটনার পরদিন বহদ্দারহাটের ফরিদাপাড়া এলাকায় নাঈম হাসানের বাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন সিএমপি কমিশনার।
এ ঘটনায় অভিযানে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়।
ঘটনা তদন্তে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) আলমগীর হোসেনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। প্রথমে ১৮ জুন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে আরও চার কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়। সময়সীমা শেষ হওয়ার পর রোববার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

















