ভারতের সিকিমের রংপো এলাকার মাজিটার নালা ব্রিজের দেয়ালে রহস্যময় একটি গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে, যা ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গ্রাফিতিটিতে বাংলাদেশের রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট HOBEKI?-এর বহুল পরিচিত চরিত্র ‘সুবোধ’-কে কাঁটাতারের তৈরি একটি হ্যামকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার হাতে রয়েছে একটি তার কাটার, আর পাশে একটি পানিভর্তি বালতি। শিল্পকর্মটি সীমান্ত, ভ্রমণ, স্বাধীনতা ও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রতীকী বার্তা বহন করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ভারতের জনপ্রিয় সংবাদপত্র দ্য ট্যালিগ্রাফ ইন্ডিয়াও এই শিল্পীর আগের কাজ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক এই গ্রাফিতি নিয়ে বাংলাদেশে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
আর্টকনের তথ্য অনুযায়ী, কংক্রিটের দেয়ালে স্টেনসিল ও স্প্রে পেইন্টের মাধ্যমে তৈরি এই গ্রাফিতির আকার প্রায় ২০ ফুট × ১২ ফুট। শিল্পকর্মটির ডান পাশে রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্টের স্বাক্ষর “HOBEKI?” দেখা যায়।
বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, গত ৩০ জুন প্রথম এই গ্রাফিতিটি জনসম্মুখে আসে।
বাংলাদেশের সমকালীন স্ট্রিট আর্টে ‘সুবোধ’ বহু বছর ধরেই একটি শক্তিশালী প্রতীক। এতদিন তাকে ভয়, অনিশ্চয়তা, তাড়না কিংবা ভাঙনের মধ্যে ছুটে চলা এক চরিত্র হিসেবে দেখা গেলেও, সিকিমের এই শিল্পকর্মে সুবোধকে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। এখানে সে যেন কোনো শরণার্থী নয়; বরং সীমান্ত পেরিয়ে আসা এক প্রতীকী পথিক, যার উপস্থিতি নতুন এক বার্তার ইঙ্গিত দেয়।
এই শিল্পকর্মটির সময়কালও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালের বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পুনরায় পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পাঁচটি ভিসা আবেদন কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণও শুরু হয়। আর এর মাত্র দুই দিন পরই ভারতের মাটিতে দেখা যায় ‘সুবোধ’-কে।
অনেকের কাছেই এটি যেন একটি প্রতীকী বার্তা – পর্যটক ভিসা পুনরায় চালুর পর ভারতে পা রাখা বাংলাদেশের প্রথম ‘প্রতীকী পর্যটক’ যেন সুবোধই।
যদিও শিল্পী HOBEKI?-এর পরিচয় এখনো রহস্যাবৃত, তবুও তাঁর প্রতিটি নতুন শিল্পকর্ম জনমনে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।

















