কামরুল ইসলাম দুলু: অসুস্থ বাবা আর প্রতিবন্ধী বোনের কারণে অল্প বয়সেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নেন মতিউর রহমান সাজ্জাদ। অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে মাত্র ২০ বছর বয়সে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতো হলো তাকে। গত শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলার ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস বিষক্রিয়ায় নিহত ৯ জনের মধ্যে মারা যায় যুবক সাজ্জাদও। সে শিপ ইয়ার্ডে কোন চাকরি করতেন না। সে ছিল ফেরদৌস স্টিলের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান আরেকটি অক্সিজেন প্ল্যান্টের কর্মচারী। উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়ন ফুলতলা এলাকায় অবস্থিত ওই অক্সিজেন প্ল্যান্টে তিন বছর কাজ করছিলেন তিনি। তার কাজ ছিল ফুলতলা থেকে ট্রাকে করে ভাটিয়ারী সেই ফেরদৌস স্টিল শিপ ইয়ার্ডে অক্সিজেন সাপ্লাই করা।
নিহত সাজ্জাদের বাবা মোঃ হানিফ বলেন, আমার ছেলে ওই জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কাজ করতো না। ইয়ার্ডের মালিকের অক্সিজেন প্ল্যান্টে কাজ করতো। ঘটনার দিন সকাল নয়টার দিকে অক্সিজেনের বোতল নিয়ে ভাটিয়ারীর ওই ইয়ার্ডে গিয়েছিলো। ওই সময় পুরাতন জাহাজে কাজ করছিল শ্রমিকরা। জাহাজে হঠাৎ চিৎকার শুনে ছুটে যায় সে। সেখানে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার পর আহত শ্রমিকদের উদ্ধারে এগিয়ে যায় সে। ‘সকালে খবর এলো সাজ্জাদ জাহাজের শ্রমিকদের বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছে।
সাজ্জাদের বাড়ি দক্ষিণ সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ফুলতলাস্থ কলোনি গেট এলাকায়। তার বাবা মো. হানিফ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারেন না। তিন মেয়ে ও এক ছেলের সংসারে অভাব-অনটন ছিল। বড় মেয়ে বুলবুলি আক্তার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। মেজ মেয়ে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়েছে কুমিরা এলাকায়। ছোট মেয়ে শান্তা আক্তার গামারিতলা মোস্তফা হাকিম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সংসারের হালধরা একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারের চলছে শোকের মাতম।

















