সীতাকুণ্ডের রমজান’র ৩৫ বছর পর দেশে ফেরার স্বপ্ন ছিল, ফিরছেন লাশ হয়ে

61

কামরুল ইসলাম দুলু: দীর্ঘ ৩৫ বছরের প্রবাস জীবনের ইতি টেনে নিজ মাতৃভূমিতে ফেরার কথা ছিল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের নডালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলীর (৫৫)। ফিরছেন তবে জীবিত নয় লাশ হয়ে।

Advertisement

গত রোববার পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন রমজান। সে নডালিয়া গ্রামের মৃত আবুল খায়েরের দ্বিতীয় ছেলে। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে পাকিস্তানে যান তিনি। সেখানে একটি টেক্সটাইল মিলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলেন। তবে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। নিহতের বোন মিলি আক্তার জানান, বাবা-মা জীবিত থাকা অবস্থায় মাঝে মধ্যে ফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলতেন রমজান। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর গত প্রায় আট বছর ধরে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও তার তেমন যোগাযোগ ছিল না। সম্প্রতি দেশে ফেরার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন রমজান আলী। দেশে ফেরার বিষয়ে তিনি বাংলাদেশ দূতাবাসে আবেদনও করেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে তার ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিষয়টি সীতাকুন্ড থানায় পাঠানো হয়। ডিএসবি (গোয়েন্দা শাখা) তার গ্রামের বাড়িতে তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদনও দেয়। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই দেশে ফেরার সম্ভাবনা ছিল রমজানের। দেশে ফিরে বিয়ে করে সংসার করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তার বোনেরা এরই মধ্যে তার জন্য পাত্রী খোঁজার কাজ শুরু করেছিলেন।

বোন মিলি আক্তার বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে ফিরে মা-বাবার কবর দেখবেন এবং জিয়ারত করবেন-এমন ইচ্ছার কথা ফোনে জানিয়েছিলেন রমজান। বর্তমানে রমজান আলীর মরদেহ দেশে এনে মা-বাবার কবরের পাশে দাফনের চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement