প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে একে অপরের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ, আড্ডা ও আনন্দ ভাগাভাগির সুযোগ করে দিতে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে-এর বার্ষিক পিকনিক।
সম্পতি পূর্ব লন্ডনের ইলফোর্ডের Valentines Park-এ আয়োজিত এ পিকনিকে লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগঠনের সদস্য, তাদের পরিবার, বন্ধু ও অতিথিসহ প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অংশ নেন। দুপুর ১২টার মধ্যে অতিথিরা নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হলে পুরো পার্ক এলাকা পরিণত হয় প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের এক প্রাণের মিলনমেলায়।
দীর্ঘদিনের ব্যস্ততার পর স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতজনদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে দিনভর আড্ডা, হাসি-আনন্দ ও স্মৃতিচারণে মেতে ওঠেন অংশগ্রহণকারীরা। শিশু থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পিকনিকের পরিবেশ হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
মো. মাসুদুর রহমানের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। এতে GCAUK-এর সদস্য, পরিবারের সদস্য ও অতিথিরা গান, আবৃত্তি, অভিনয়, ছড়া, কৌতুক, ধাঁধা ও স্মৃতিচারণসহ নানা পরিবেশনায় অংশ নেন।
দুপুরে ছিল বিশেষ খাবারের আয়োজন। খাবার পর্ব শেষে শুরু হয় বিভিন্ন বয়সী অংশগ্রহণকারীদের জন্য খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা। শিশুদের বিভিন্ন খেলা, নারীদের বালিশ খেলা ও বল নিক্ষেপ এবং পুরুষদের রশি টানাটানি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। খেলাধুলার আয়োজন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জাওয়াদ, যিনি GCAUK-এর খেলাধুলা ও বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিজ এগিয়ে নিতে নিয়মিত কাজ করছেন।
পিকনিকে প্রবাসের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও খাবারেরও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। চা-নাশতা, বিভিন্ন ধরনের পিঠা, চনামুড়ি, পিয়াজি, আমের চাটনি ও ফুচকাসহ নানা দেশীয় খাবারের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি Corner Chatgaya Stall-এর বিশেষ আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন GCAUK-এর ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, কনভেনিং কমিউনিটির কনভেনার ব্যারিস্টার আবু মুনছুর শাহজাহান, ট্রাস্টি শওকত মাহমুদ টিপু, ট্রাস্টি মীর রাশেদ আহমেদ, কাউন্সিলর সৈয়দ ফিরোজ গনি, মো. আরশাদ মালেক, মোহাম্মদ আলী, মুনির মাহমুদ, হাসান আনোয়ার, মো. আলী রেজা, সুজন বড়ুয়া, অ্যাডভাইজার ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আলমগীর, ব্যারিস্টার জিল্লুরসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট অতিথিরা।
দিনভর আবহাওয়ায়ও ছিল বৈচিত্র্য। কখনো মেঘলা আকাশ, আবার কখনো হালকা বৃষ্টি হলেও এতে পিকনিকের আনন্দে কোনো ভাটা পড়েনি। বরং বৃষ্টির মধ্যেও অংশগ্রহণকারীদের হাসি-আড্ডা ও আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল অব্যাহত।
আয়োজন সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা করেন লুনা তানজিনা, নূরুন্নবী আলী, কুতুবুল আলম, আসমা আলম, মো. আব্দুল হালিম, মাওলানা মোহাম্মদ হাসান, রেজাউল করিম, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়েজ জামান, সায়েমসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকরা।
আয়োজকরা জানান, এ আয়োজনের উদ্দেশ্য শুধু বিনোদন নয়; প্রবাসে বসবাসরত বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসী ও তাদের পরিবারের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করা। বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রবাসেও বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর ঐক্য ও সম্প্রীতির দৃঢ়তার প্রমাণ বলে তারা উল্লেখ করেন।
অংশগ্রহণকারীদের ভাষ্য, এটি নিছক একটি পিকনিক ছিল না; বরং প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের এক প্রাণের মিলনমেলা। দীর্ঘদিন পর পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা করা, নতুন সম্পর্ক তৈরি এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সমাপনী বক্তব্যে GCAUK-এর ট্রাস্টি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং কনভেনার ও ট্রাস্টি ব্যারিস্টার আবু মুনছুর শাহজাহান পিকনিক সফল করতে যারা সময়, শ্রম ও সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তারা বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার কারণেই এবারের আয়োজন সফল হয়েছে।
প্রায় ২০০–২৫০ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে GCAUK-এর এবারের বার্ষিক পিকনিক প্রবাসে বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীদের ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল।
















