ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ, হরমুজ প্রণালিতে দুই ট্যাংকারে আগুন; বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

25

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার খবর দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। অন্যদিকে, ইরানের নৌ অবরোধ ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

Advertisement

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইরানের কেশম দ্বীপ, জাস্ক, সিরিক ও বন্দর আব্বাস এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে এসব বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানি কর্তৃপক্ষও কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এদিকে রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী দাবি করে, হরমুজ প্রণালিতে একটি অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলের সময় মাইনের আঘাতে দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে জাহাজ দুটির পরিচয়, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের একটি বন্দরে অবস্থানের পর নৌ অবরোধ অমান্য করে অঞ্চল ছাড়ার চেষ্টা করছিল সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা না মানায় মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজটির পেছনের অংশ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে জাহাজটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও নৌবাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ, ইরানের সামরিক তৎপরতা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Advertisement