জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে থেকেই যুদ্ধ করেছেনঃ শামীম

311

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেছেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী থেকে শুরু করে নিশিরাতের ভোটের মন্ত্রী এমপিরা বিষোদগার করে চলেছেন স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের বিরুদ্ধে। তারা জিয়াউর রহমানের সমাধি ও তার একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেছেন। এইগুলো হচ্ছে হাস্যকর বক্তব্য। এই কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেশের মানুষ বিশ্বাস করেনা। এই বক্তব্যগুলো থেকে প্রমাণিত হয় যে, এরা কতটা প্রতিহিংসা পরায়ন। তারা শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার ন্যূনতম স্বীকৃতি দিতেও নারাজ। আজকে এটা দিবালোকের মতো সত্য যে, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে থেকেই যুদ্ধ করেছেন, রণাঙ্গনে থেকেই যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যেদিন শাহাদতবরণ করেন সেদিন এদেশের লাখ লাখ মানুষ তার জন্য কেঁদেছিল। মানিক মিয়া এভিনিউতে লাখ লাখ মানুষের তার জানাজায় অংশ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি যে কত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন সেটা প্রমাণিত হয়েছে।

Advertisement

তিনি বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে কাজীর দেউরী নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয়ের মাঠে মহিলাদলের ৪৩ তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর মহিলাদলের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

এতে প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান।

এসময় মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মেজর জিয়া ছিলেন রনাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনাপ্রধান এবং বাংলাদেশের একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য স্বাধীনতা পরবর্তী সরকার তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করেছে। অনেকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস না জেনে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কিন্তু শহীদ জিয়াকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। তারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, ভোটের অধিকার লুট করেছে, বাংলাদেশকে একটা তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। জনগণের সমস্ত অধিকার ছিনিয়ে নিয়ে এটাকে একটা পুরোপুরি তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চলেছে। আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে, বিএনপির ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, নির্যাতন হচ্ছে এর থেকে মুক্তি পেতে হলে দরকার জনগণের ইস্পাত কঠিন ঐক্য। দরকার সংগঠনকে শক্তিশালী করে রাজপথের দুর্বার আন্দোলন। আর এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে দেশে জনতার গণঐক্য গড়ে উঠবে। সেই ঐক্যের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে একটি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যে আমাদেরকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আওয়ামী লীগ অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমানকে নিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। জিয়া পরিবার ও বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে দেয়া এসব বক্তব্য নির্লজ্জ মিথ্যাচার। তারা জনগনের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই এই মিথ্যাচার শুরু করেছে। কিন্তু এই মিথ্যাচার করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, সরকার এখন দুর্বল হয়ে গেছে। কিন্তু বিএনপির কোন দুর্বলতা নেই। সরকারের ভীত নড়বড়ে হয়ে গেছে। তারা এখন সামান্য মাইকের আওয়াজ পর্যন্ত সহ্য করতে পারছে না। বিএনপির সমাবেশে মাইক প্রচারেও বাধা দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম মহানগর মহিলাদলের সভানেত্রী সাবেক কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সি. যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, যুগ্ম আহবায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটন।

বক্তব্য রাখেন মহানগর মহিলাদলের সহ সভাপতি সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, খালেদা বোরহান, শাহেদা খানম, রেনুকা বেগম, যুগ্ম সম্পাদক আখী সুলতানা, রেজিয়া সুলতানা মুন্নি, খতিজা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলজার বেগম, দপ্তর সম্পাদক নাসরিন বাপ্পি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নুরজাহান বেগম নুপুর, কামরুন্নেছা, ফাতেমা কাজল, মহিলাদল নেত্রী আসমা বেগম, পারভিন চৌধুরী, পারভিন আক্তার, জাহানারা বেগম, মমতাজ বেগম, খাইরুন্নেছা, নাসিমা আক্তার, নার্গিস বেগম, কোহিনুর বেগম, শাহনাজ বেগম, বকুল বেগম, রুমা আকতার, মর্জিনা বেগম, খালেদা বেগম, মোরশেদা বেগম প্রমূখ।

Advertisement