সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া না দিতে যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক এবং নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা খোরশেদ আলম সুজন। আজ বুধবার (১০ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রী সাধারণের প্রতি এ অনুরোধ জানান তিনি।
এসময় তিনি বলেন রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির তীব্র সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সংকট সারা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় সকল রাষ্ট্র এ পরিস্থিতিতে হিমশিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় সরকারকে অন্যান্য দেশের মতো জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। কিন্তু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে এক ধরণের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যা কারো কাম্য ছিলোনা।
অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমরা দেখেছি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে কতিপয় পরিবহন মালিক সংগঠন হঠাৎ করে ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়ে জনজীবনকে অশান্ত করার পায়তারাতে লিপ্ত হয়েছে। সরকার সাথে সাথে ডিজেলচালিত সব গণপরিবহনের বর্ধিত ভাড়া পুনঃনির্ধারণ করে দিলেও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে পরিবহন শ্রমিকরা। এক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকাও তারা মানছে না, তারা নিজেদের ইচ্ছেমতোই ভাড়া আদায় করছে। এতে করে যাত্রী সাধারণের সাথে প্রতিদিন পরিবহন চালক-সহকারীর বাকবিতন্ডা হচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। ফলত যাত্রী পরিবহন নিয়ে এক প্রকার অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ।
এমতাবস্থায় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রতিটি স্ট্যান্ড এবং গাড়ীর দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে বিআরটি’র প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। বিআরটিএ নির্দেশিত এ তালিকায় গ্যাস চালিত যানবাহন কোনভাবেই ভাড়া বৃদ্ধি করতে পারবে না বলা হলেও তেল চালিত যানবাহনের পাশাপাশি গ্যাস চালিত যানবাহনেরও ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে অযৌক্তিকভাবে। নগরীর বিভিন্ন রুটের গ্যাস চালিত গণপরিবহনে যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণ এক্ষেত্রে এক প্রকার অস্বস্তিতে ভুগছেন। পরিবহন খাতে এসব অস্থিরতা বন্ধে মোবাইল কোর্টের আওতা বৃদ্ধি করে জনজীবনে প্রশান্তি আনতে বিআরটিএ’র প্রতি আহবান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে চলাচলকারী অধিকাংশ গাড়িই লক্কর-ঝক্কর মার্কা, গাড়ির অভ্যন্তরে অপরিষ্কার, সিটগুলোও ছেড়া-ফাটা। বাসের বডির অংশ খুলে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কোনোটার পেছনের বাম্পার খুলে ঝুলে আছে। ভেতরে বসার সীটগুলো নড়বড়ে। আবার অনেক গাড়ির ফিটনেসও নেই। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। ভাড়া বৃদ্ধির সাথে এসব লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি যাত্রী সাধারণের চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলারও আহবান জানান তিনি।
যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে তা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়া ঐ গাড়ীর নাম্বারসহ ছবি তুলে ০১৭৮১১০২৩০১ এ নাম্বারে ওয়াটসআপে প্রেরণ করার অনুরোধ জানান সুজন। যাত্রী সাধারণের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ’র সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন তিনি। আগামী তিনদিনের মধ্যে চট্টগ্রাম শহরে চলাচলকারী গণপরিবহনের যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ না হলে নাগরিক উদ্যোগ জনগনকে সাথে নিয়ে ভাড়া নৈরাজ্যকারীদের প্রতিহত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন খোরশেদ আলম সুজন।

















